কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর, চৌড়হাস, ত্রিমোহিনী ও বাইপাস সড়কে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক। খোলা ট্রাক থেকে বাতাসে উড়ে আসা বালু পথচারী ও চালকদের চোখে পড়ছে। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখেছে প্রেসটাইম২৪।

সড়কে যা দেখা গেছে

এই প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে, শহরের এসব সড়কে রাতের দিকে ড্রাম ট্রাকের চলাচল শুরু হয়ে সকাল পর্যন্ত চলে। সড়ক ফাঁকা থাকায় ট্রাকগুলো অনেক সময় বেশ দ্রুতগতিতে চলে, গতির দিকে চালকদের খেয়াল থাকে না বললেই চলে।

বেশির ভাগ ট্রাকের বালু ত্রিপল বা কোনো আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে না। চলন্ত ট্রাক থেকে বালু উড়ে পেছনের যানবাহন ও রাস্তার পাশের মানুষের ওপর পড়ে। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের আরোহী এবং পথচারীদের চোখে বালু পড়তে দেখা গেছে।

সকালে যাঁরা হেঁটে বা খোলা যানবাহনে কাজে, স্কুলে বা বাজারে যান, তাঁদের এই সময়েই ট্রাকগুলোর পাশ দিয়ে চলতে হয়।

চোখে বালু পড়া কেন বিপজ্জনক

চলন্ত অবস্থায় চোখে বালু পড়লে চালক কয়েক মুহূর্তের জন্য সামনে কিছু দেখতে পান না। মোটরসাইকেল বা রিকশার চালকের জন্য এই কয়েক মুহূর্তই নিয়ন্ত্রণ হারানোর জন্য যথেষ্ট, বিশেষ করে পাশ দিয়ে যখন ভারী ট্রাক দ্রুতগতিতে যায়।

রাস্তায় জমে থাকা বালুও ঝুঁকি বাড়ায়। বালুর ওপর দিয়ে ব্রেক করলে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আগেও ঘটেছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

কুষ্টিয়ায় ড্রাম ট্রাকের দুর্ঘটনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ সকালে ত্রিমোহিনী বাইপাস মোড়ে দ্রুতগতির একটি ড্রাম ট্রাক মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে এক মা ও তাঁর তিন বছরের ছেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয়দেব কুমার তখন জানিয়েছিলেন, ট্রাকচালককে আটক করা যায়নি। খবরটি প্রকাশ করেছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

একই বছরের ২০ মে কুষ্টিয়া মেহেরপুর সড়কের মিরপুর উপজেলার যোগীপোল এলাকায় বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। মিরপুর থানার ওসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন বলে ঢাকা টাইমস জানিয়েছে।

আইন কী বলে

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শহরের ভেতরে ট্রাক চলাচলের সময় ও গতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ

মজমপুর, চৌড়হাস ও ত্রিমোহিনী শহরের ব্যস্ত এলাকা, আর বাইপাস সড়ক দিয়ে আশপাশের জেলার যানবাহনও চলে। ভোরের দিকে এসব সড়কে শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও বাজারমুখী মানুষের চলাচল বাড়ে, অথচ তখনো ট্রাকের চলাচল থামে না। গতি নিয়ন্ত্রণ আর বালু ঢেকে পরিবহনের মতো সহজ পদক্ষেপেই এই ঝুঁকির বড় অংশ কমানো সম্ভব।

নিজেকে নিরাপদ রাখতে যা করবেন

  • মোটরসাইকেল চালালে ভাইজরসহ হেলমেট বা চশমা ব্যবহার করুন।
  • বালুবোঝাই ট্রাকের ঠিক পেছনে না থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখুন।
  • রাস্তায় বালু জমে থাকলে গতি কমিয়ে আস্তে ব্রেক করুন।
  • চোখে বালু পড়লে চোখ না ঘষে থেমে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ব্যথা বা ঝাপসা দেখা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।

এখানে দেওয়া পরামর্শ সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়।

আরও পড়ুন: দেশের অন্য খবর পাবেন বাংলাদেশ বিভাগে। প্রবাসীদের খবর: রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি। সব খবর একসঙ্গে দেখতে সর্বশেষ পাতায় যান।