ভারতের রাজধানী দিল্লির সঞ্জয় কলোনি পুলিশ পোস্টে গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি চাইতে যাওয়া আইনজীবীদের কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এক বিশেষ শুনানিতে বিষয়টি তোলা হয়।
আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে আদালতকে বলেন, ময়দান গড়ি এলাকার ওই পুলিশ পোস্টে যাওয়া আইনজীবীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পুলিশ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) করার হুমকিও দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ভারতের আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চ শুনানির এ বিবরণ দিয়েছে।
থানায় কী ঘটেছিল বলে অভিযোগ
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ থেকে আটক তিন ছাত্রের মুক্তি চাইতে আইনজীবী ফিদেল টম ওই পুলিশ পোস্টে যান। পরে তিনি নিজেই আটক হন।
ছাত্রকর্মীদের দাবি, সাদাপোশাকের এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে টমকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল বলে অভিযোগ। টম ও তিন ছাত্রকে মধ্যরাতের কিছু পরে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের চিকিৎসা ও আইনি পরীক্ষা (মেডিকো লিগ্যাল) করানো হয়।
অন্য আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগ আটক ব্যক্তি ও ছাত্রকর্মীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পুলিশ কী বলছে
দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) খোঁজ নিয়ে জানানোর কথা বলেছিলেন, তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব দেননি। দিল্লি পুলিশের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও ফোন বা বার্তার উত্তর দেননি।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষের আইনজীবী বলেন, বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদস্যরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আদালত যা বলেছে
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ বলেছেন, কাউকে বেআইনিভাবে আটক রাখা যাবে না। আইনজীবী, সাংবাদিক ও অন্য পেশাজীবীদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও আদালত জানিয়েছেন। এ সময় দেশটির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বাস দেন, তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হবে না।
বিচারপতি বাগচী বলেন, জীবন ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে পুলিশ, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিক সবার প্রতি আদালতের উদ্বেগ সমান। বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তাঁর এ মন্তব্য প্রকাশ করেছে।
কোন বিক্ষোভ ঘিরে এ ঘটনা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও কয়েকটি বাম ছাত্রসংগঠন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল তাদের মূল দাবি।
একই দিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে মিছিল করতে গেলে প্রায় ১০০ আইনজীবীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। দ্য ওয়্যার বার অ্যান্ড বেঞ্চের বরাতে এ সংখ্যা জানিয়েছে। আটক আইনজীবী সুমিতা হাজারিকা অভিযোগ করেন, কয়েকজন নারী আইনজীবীর সঙ্গে নামফলকহীন পুলিশ সদস্যরা দুর্ব্যবহার করেছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
আটক কোনো ব্যক্তির আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার ভারতের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত। শুনানিতে সঞ্জয় হেগড়ে এ যুক্তিই তোলেন যে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের মধ্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকারও পড়ে। ফলে আইনজীবীকেই থানায় আটকে মারধরের অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, আটক সব মানুষের আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন।
বাংলাদেশেও আইনজীবী ও পুলিশের মধ্যে এমন বিরোধ মাঝেমধ্যে আলোচনায় আসে। প্রতিবেশী দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ ধরনের অভিযোগ কীভাবে দেখছে, তা এ অঞ্চলের আইনি অঙ্গনের জন্যও নজর রাখার মতো বিষয়।
এরপর কী
সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী শুনানি ঠিক করেছে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জবাব ও আদালতের নির্দেশ মানার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মারধরের অভিযোগ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।
আরও পড়ুন: প্রতিবেশী দেশ ও বিশ্বের অন্য খবর পাবেন বিশ্ব বিভাগে। মধ্যপ্রাচ্যের খবর: রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি। সব খবর একসঙ্গে দেখতে সর্বশেষ পাতায় যান।
