করোনাভাইরাস

দেশে করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২০ দিনে মারা গেছেন ৪০ জন!

বিশ্বজুড়ে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে। এখন পর্যন্ত আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, মারা গেছেন ৫ জন।

বিশ্বব্যাপী করোনা আতঙ্কের মাঝে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মানুষ মারা যাবার খবর গণমাধ্যমে আসছে প্রতিদিনই। করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১১ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা সন্দেহে তাদের বাড়িঘর লকডাইন করে ফেলা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃতের লাশ করোন রোগী হিসেবেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে আতঙ্ক বাড়ার পাশাপাশি গুজব ছড়াচ্ছে সর্বোচ্চ। গত কয়েকদিনে দেশে পর্যাপ্ত পরিক্ষার কিট না থাকায় মৃত্যুর আগে জানা যায় নি এসকল মৃত্যুর রহস্য, পরে অবশ্য অনেকের ব্লাড সেম্পল আইইডিসিআর থেকে পরিক্ষা করে অধিকাংশ মৃত্যব্যাক্তিদের করোনা নেগেটিভ বলেই জানানো হয়েছে। 

করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১১ মার্চ মারা যান ১ জন, ১৯ মার্চ ৩ জন, ২২ মার্চ ৩ জন, ২৪ মার্চ ৫ জন, ২৫ মার্চ ২ জন, ২৬ মার্চ ১ জন, ২৭ মার্চ ২ জন, ২৮ মার্চ ৭ জন, ২৯ মার্চ জন এবং ৩০ মার্চ এই সংখ্যা দাড়ায় ১০ জনে। 

১১ মার্চ রংপুর, ১ জনের মৃত্যু
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে কর্মরত এক আনসার সদস্য ৪ মার্চ ঠাণ্ডা ও জ্বরের কারণে ছুটি নিয়ে রংপুরে বাড়িতে চলে যান। সেখানে ১১ মার্চ তারিখে মারা যান। 

১৯ মার্চ খুলনা, ২ জনের চট্টগ্রামে ১ জনের মৃত্যু
জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে খুলনায় গত বৃহস্পতিবার দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন সম্প্রতি ভারত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। এক রোগীর স্বজনেরা বলছেন, উপসর্গ শুনেই চিকিৎসকেরা ভয় পেয়ে রোগীর কাছে আসেননি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির পরিচালক এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, মৃত ওই দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল। তাঁদের মধ্যে একজন ভারত থেকে এসেছেন। কিন্তু করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের করোনা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল থেকে আরেক ব্যক্তিকে খুলনা মেডিকেলে আনার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে বাড়িতে ফেরেন। এরপরই জ্বর, গলাব্যথা, কাশিতে আক্রান্ত হন তিনি। স্থানীয়ভাবে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার খুলনায় আনার পথেই তিনি মারা যান।

এদিকে, গত ১৯ মার্চ চট্টগ্রাম নগরের বেসরকারি ‘রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে’ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শ্বাসকষ্টে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নারীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে এমন সন্দেহে তাকে সেবা দেয়া এক চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হাসপাতালটির আইসিইউ ও এইচডিইউ ইউনিট।

তবে গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে ৩০ বছর বয়সী ওই রোগী মারা গেলেও বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে ২৩ তারিখ সোমবার।

২২ মার্চ ঢাকার মিরপুর, ভৈরব ও সিলেটে ৩ জনের মৃত্যু
টোলারবাগের এক বাসিন্দা ২২ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় মারা গেছেন। রোববার সকালে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ বিকেলে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে জানানো হয় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। টোলারবাগের যে ব্যক্তি ২১ তারিখ শনিবার রাতে মারা গেছেন, তাঁর সঙ্গে  তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি থাকতেন তাঁদের পাশের ভবনে।  এরপরে রোববারে শ্বাসকষ্টে অচেতন হয়ে গেলে, কুর্মিটোলায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে এম্বুলেন্স ডাকা হয়। লক্ষণ শুনে এম্বুলেন্সচালক ভয় পেয়ে রোগী বহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে অন্য এম্বুলেন্সে কুর্মিটোলা নিয়ে যাওয়ার সময়ে পথেই মারা যান। 

গত ২২ মার্চ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইতালি থেকে আসা এক ব্যক্তির (৬০) মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন মৃত ব্যক্তির চারপাশের ১০টি ঘর এবং দুটি বেসরকারি হাসপাতালের মানুষের চলাচল সীমিত কের দেয়। ঘটনার রাতে দুই হাসপাতালে যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের হাসপাতালের ভেতরেই অবস্থান করতে বলা হয়েছিল।

এদিকে, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোনাভাইরাস ‘সন্দেহে’ যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী (৬১) মারা গেছেন।
২১ মার্চ শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে আইসোলেশনে থাকা ওই নারী মৃত্যুবরণ করেন। এবিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল জানিয়ে ছিলেন, রোববার ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের লোক সিলেটে এসে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল। তবে এর আগেই যুক্তরাজ্যফেরত ওই নারী মারা যান।

২৪ মার্চ করোনা লক্ষণ নিয়ে চট্টগ্রাম, জামালপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ঢাকায় মারা গেছে ৫ জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরে গতকাল ২৪ মার্চ মঙ্গলবার রাতে এক নারী (৫৫) মারা গেছেন । স্বজনেরা জানিয়েছেন, তাঁর জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ঢাকা থেকে ফেরত এক বৃদ্ধা ২৪ মার্চ মঙ্গলবার সকালে শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়ার ঘটনায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা রকম শঙ্কা দেখা দেয়। পরে আইইডিসিআরের নির্দেশে সন্ধ্যায় জামালপুরের সিভিল সার্জন মৃত ওই নারীর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে একজন রোগী কোভিড-১৯ এর যাবতীয় লক্ষণ নিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৪৬ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী এলাকায়। ২০ মার্চ তিনি জ্বর-সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন।অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ২২ মার্চ আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে সিলেট নগরীতে হোম কোয়রেন্টিনে থাকা এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন (৬৫) নামের ওই বৃদ্ধ দেশে থাকলেও তার ছেলে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন কিডনির জটিলতায় ভূগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে হতো। গত ১৪ মার্চ যুক্তরাজ্য থেকে তার ছেলে দেশে ফেরেন। পরদিন গিয়াসউদ্দিনের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বাবাকে নিয়ে সিলেট কিডনী ফাউন্ডেশনে যান তার প্রবাসী ছেলে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিস্তারিত শুনে গিয়াস উদ্দিনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার পরামর্শ দেন। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এসেও গিয়াস উদ্দিনকে কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলেছিলেন।  বাড়িতেই মঙ্গলবার রাত ৯ টায় গিয়াস উদ্দিন মারা যান।  

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় করোনাভাইরাসে এক ব্যক্তির (৪৮) মৃত্যু হয়েছে, এমন সন্দেহে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার একটি গ্রাম লকডাউন (বদ্ধাবস্থা) ঘোষণা করেছিল উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার সকাল থেকে ওই গ্রাম লকডাউন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মৃত ঐ ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালের ক্যাশিয়ার পদে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে তিনি ঢাকাতেই থাকতেন। সপ্তাহখানেক আগে তিনি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তাঁর কর্মস্থল থেকে তাঁকে হোম কোয়ারেন্টিনে (বাড়িতে পৃথক থাকা) থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি ঢাকার বাসায় কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মৃত ঘোষণা করে।

২৫ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে খাগড়াছড়িতে মারাগেছে ২ জন
গত ২৫ মার্চ খাগড়াছড়ির সদর হাসপাতালে এক ব্যাক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসেন। এসময় উচ্চমাত্রায় তার জ্বর দেখে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আইসোলেশন ইউনিটে রাখে। হাসপাতালে নিয়ে আসার ৬ ঘন্টার মধ্যেই তিনি মারা যান।  

এদিকে, খাগড়াছড়ির ত্রিপুরা জাতির এক তরুন করোনা উপসর্গ নিয়ে তার বাড়িতে মারা যান। তরুণ শ্রমিক চট্টগ্রামের একটি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ করতেন। ঠাণ্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি বাড়িতে আসেন। এবং বুধবারে বাড়িতেই মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান আইইডিসিআর এর পরামর্শ মোতাবেক মৃত ব্যক্তি থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন, কেননা তাদের কাছে কোন সুরক্ষা সরজঞ্জামাদি ছিল না।  

২৬ মার্চ ঢাকায় মারা গেছেন ১ জন
ঢাকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে একই হাসপাতালে পাশাপাশি বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন খুলনার মোস্তাহিদুর রহমান (৪৫)। পরে তাকে খুলনায় আনা হয়। ভর্তি করা হয় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হলে একদিন পরে জানা যায় ঐ ব্যক্তির করোনা টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ ছিলো।  

২৭ মার্চ নোয়াখালি ও বগুড়ায় মারা গেছে ২ জন
নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে জ্বর ও রক্তবমিতে ২৪ বছর বয়সী এক যবুকের মৃত্যু হয়েছে।নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের দন্ত চিকিৎসক ডা. শরীফের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কিছু দিন আগে তিনি ঢাকায় যান। তিন দিন আগে জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে চৌমুহনীতে আসেন। জ্বরের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চৌমুহনী হকার্স মার্কেট এলাকার একটি ক্লিনিকের ডাক্তরা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল আউয়ালের কাছে গেলে তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যুবকের কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া শুরু হলে পরিবারের লোকজন ডা. আবদুল আউয়ালকে অবগত করেন। ডা. আউয়াল তাকে দ্রুত হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাতেই পরিবারের লোকজন যুবককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন। আইইডিসিআরের পরামর্শ মোতাবেক নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।    

এদিকে, গত ২৭ মার্চ জ্বর ও সর্দি–কাশি নয়ি বগুড়ার শিবগঞ্জে মারা গছেনে এক ব্যক্তি। মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জানা তাঁর স্বামী গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার একটি মুদি দোকানে কাজ করতেন। গত মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরের দিন তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে। শুরু হয় সর্দি–কাশি। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে জ্বরের ওষুধ সেবন করছিলেন তিনি। কিন্ত ২৬ মার্চ রাতে অবস্থার চরম অবনতি হয়। বাড়িতে আট বছরের মেয়ে ছাড়া তাঁর সঙ্গে আর কেউ নেই। মধ্যরাতে তাঁর স্বামী প্রচণ্ড জ্বরে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন। অসুস্থ স্বামীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য স্ত্রী প্রথমে পাড়া–প্রতিবেশীদের সহযোগিতা চান। ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কেউ এগিয়ে আসেননি। এরপর স্ত্রী অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন জেলা ও উপজেলার হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে। কিন্তু সারা রাতে কোথাও থেকে তিনি কোনো সাড়া পাননি।  

গত ২৮ মার্চ করোনা লক্ষণে মারা গেছেন ৭ জন 
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ঢাকা ফেরত আজিজুল ইসলাম ওরফে মাস্টার (৪৫) নামে এক রিকশা চালক শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর করোনা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন তার প্রতিবেশীরা। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলা সদরের ভাদাই ইউনিয়নের হেলিপ্যাড এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। মাস্টার ওই গ্রামের নান্দু মিস্ত্রীর ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলা সদরে বুড়িরহাটের নৈশ্যপ্রহরী আজিজুল ইসলাম ওরফে মাস্টার দীর্ঘদিন অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নৈশ্যপ্রহরী চাকরি ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন রিকশা চালিয়ে গত ৭-৮ দিন আগে জ্বর, সর্দ্দি ও কাশি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে জ্বর, সর্দ্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের জন্য আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করেন। চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে অবস্থান করে সতর্কতার সঙ্গে চলতে পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশও তাকে বাড়ির বাইরে না যেতে নিষেধ করেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে নিজ বাড়িতেই শ্বাসকষ্টে মারা যান আজিজুল ইসলাম ওরফে মাস্টার।

করোনা উপসর্গ নিয়ে বগুড়ায় মারা গেছেন ২ জন।  বগুড়ার শিবপুরে পাঁচদিন জ্বরে আক্রান্ত থাকার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। তার বয়স ৪৫ বছর। তিনি ঢাকায় ব্যবসা করতেন। গত মঙ্গলবার বগুড়ায় যান তিনি। নিহত ব্যক্তি পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিচ্ছিলেন। তারপরও তার জ্বর ভাল হচ্ছিলনা। সকালে তার মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুর ঘটনায় আশপাশের ১৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছিলো স্থানীয় প্রশাসন।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মারা যান। বগুড়ার এই ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শিবগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে স্ত্রীর কর্মস্থল এলাকায় ভাড়া বাসায় আসেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মারা যান ওই ব্যক্তি। এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার খবরে এলাকা জুড়ে করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে।  

চাঁদপুরের ব্রজেন্দ্র লাল সাহা শনু শনিবার বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার আগে গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের কর্মস্থলে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন শনু। তবে মৃত্যুর কারণ করোনাভাইরাস কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইইডিসিআর এর রিপোর্টে টেস্ট নেগেটিভ এসেছে বলে চাঁদপুর সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।  

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নেওয়ার পথে এক নারীর (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের এই নারীর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল, কয়েক দিন আগে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বরিশাল সদর হাসপতালে চার দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি বাড়ি ফিরে যান। এরপরে শুক্রবার (২৭ মার্চ) থেকেই তাঁর হালকা কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত পৌনে ১২টার দিকে ওই নারীকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। রোগীর স্বজনদের কাছে উপসর্গের ইতিহাস শুনে তাকে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পাঠানো হয়। করোনা ইউনিটে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। 

পটুয়াখালী শহরে সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ২৮ মার্চ শনিবার বিকেলে জেলা শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকায় তিনি মারা যান। সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির বয়স ৬৫। তাঁর বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামে। তিনি ভ্যানচালক ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহ আগে তিনি জেলা শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে আসেন। গতকাল শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যুর পর তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। এ খবর পেয়ে রাতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়।

নওগাঁর রাণীনগরে ঢাকা থেকে আসা আল আমিন (২২) নামের এক যুবককে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী। অসুস্থ আল আমিন তিনটি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যায়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়। নওগাঁর এই তরুণ ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে জ্বর আর কাশি নিয়ে ঢাকা থেকে নওগাঁয় আসেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার সময় করোনা আক্রান্ত হয়েছে সন্দেহে মেম্বার ও গ্রামের লোকজন তাকে আসতে দেয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকার ভেটি স্ট্যান্ড থেকে চিকিৎসার জন্য আদমদীঘি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা না করেই ফিরিয়ে দেন চিকিৎসকরা। এরপর তাকে কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে পরে তার সহযোগিতায় চিকিৎসার জন্য প্রথমে রাণীনগর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দেখেই হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠায়। নওগাঁ হাসপাতালে পৌঁছার পর সেখানেও ভালোভাবে না দেখে রাজশাহী নিয়ে যেতে বলে হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয়। এরপর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরে তার জ্বর কোনোভাবেই কমছিল না। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়।  

২৯ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের
মানিকগঞ্জে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে এক নারী মারা গেছেন। ২৯ মার্চ রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল র্কতৃপক্ষ জানান, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। এর আগে নিহত সুচিত্রা সরকার সাত দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। দুই দিন ধরে তার পাতলা পায়খানা ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা সাত দিন আগে ওই নারীর শ্বশুর মারা যান। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। সেইখানে আসা কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ গঠনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং তাদের নিকটতম প্রতিবেশীদের এরইমধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টে একজন মারা গেছেন।  রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা এই নারী কয়েক দিন ধরেই সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অল্প অল্প অসুস্থ ছিলেন। তাই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি।  রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত সন্দেহেই তাকে দাফন করা হয়। আইইডিসিআরকে জানানো হলে রোববার (২৯ মার্চ) সকালে তার মোহাম্মদপুরের বাসায় এসে নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়। 

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৬১ বছর বয়সের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার এই নারীর ৪/৫ দিন আগে প্রচণ্ড জ্বর, কাশি, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বিষয়টি জানাতে হটলাইনে ফোন করা হলেও কেউ ধরেনি। মারা যাওয়ার পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। কিন্তু তাঁরাও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কেউই আসেননি। 

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে  আইসোলেশন ইউনিটে থাকা এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। নড়াইলের কালিয়া উপজেলার এই বৃদ্ধ ‘স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত’ সমস্যায় শনিবার (২৮ মার্চ) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। তাকে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে তিনি মারা যান।  

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে জ্বর ও সর্দি কাশি নিয়ে রোকসানা (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার রাতে উপজেলার পূর্ব কামারখাড়া ইউনিয়নের হালদার বাড়ীতে এ নারীর মৃত্যু হয়। মিজান হালদারের স্ত্রী রোকসানা দীর্ঘদিন কিডনি ও লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে তার জ্বর ও সর্দি কাশি ছিল। রোকসানার স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজে'লার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পলা'শীকুড়া গ্রামের আব্দুল আওয়াল (৫৫) নামের এক ব্যাক্তি গতকাল রবিবার (২৯ মা'র্চ) রাত সাড়ে নয়টার দিকে মা'রা গেছেন। তিনি গত তিন চার দিন ধরে জ্বর ও শ্বা'সক'ষ্টে ভুগছিলেন। তিনি বাগেরহাট জে'লার রামপাল উপজে'লায় পাইলিং কন্সট্রাকশনের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কর্ম'রত ছিলেন। গত চার দিন আগে সাধারণ ছুটি পেয়ে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর থেকেই তার জ্বর ও শ্বা'সক'ষ্ট বেড়ে যায়। হাসপাতা'লে না নেয়ায় এক পর্যায়ে রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মৃ'ত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ওই ব্যাক্তির সংস্পর্শে যারা ছিলেন তারাসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিলো। 

৩০ মার্চ ভিবিন্ন জেলায় মারা গেছেন ১০ জন
কুষ্টিয়ায় এক ব্যবসায়ী, যশোরে মালয়েশিয়াফেরত ও এক শিশু, শেরপুরে এক শ্রমিক, সুনামগঞ্জে এক নারীর, দিনাজপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা একজন ও এক শ্রমিক, চাঁদপরে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাবা ও ছেলেসহ বিভিন্ন স্থানে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ১০জন।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ায় সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতা মারা গেছেন। গতকাল সোমবার (৩০) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তিন দিনের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার দেহে করানোভাইরাস সংক্রমণের জীবাণু আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয় বলে জানান তিনি।

পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের জানিয়েছে ওই ব্যক্তি (৪০) পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা। শহরের চৌড়হাস সাহাপাড়া এলাকায় পরিবারে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। গত শুক্রবার তার সর্দি দেখা দেয়। এরপর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে।

যশোর : যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ১৬তম দিনে গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি মালয়েশিয়া শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।

করোনা সন্দেহে যশোরে মৃত শিশুর লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আতঙ্কে লাশ ফেলে যাওয়া স্বজনদের শনাক্ত করে গতকাল সোমবার দুপুরে লাশ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার বিকেলে জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে আসা ওই শিশুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এরপর গতকাল ভোরে শিশুটি মারা যায়।

শেরপুর : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে তিন দিন শ্বাসকষ্টে ভোগার পর রোববার রাত ১০টার দিকে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি খুলনা বাগেরহাট জেলার রামপালে পাইলিং শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ পলাশিকুড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে আসেন।

নিহত ব্যক্তি স্থানীয় ফার্মেসি থেকে শ্বাস কষ্টের ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন। তারপরও তার শ্বাস কষ্ট বন্ধ হয়নি। রাতে তার মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় ৬০ বছর বয়সী নারীর কাশি ও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই নারীর মৃত্যুর পর এলাকায় উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। এরপর তার স্বামীকে করোনা পরীক্ষাকরণের জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিনের মাধ্যমে তাকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও রোগীর স্বজনরা জানান, সুনামগঞ্জ শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় ৬০ বছর বয়সি নারী উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকস্টের রোগী ছিলেন। কয়েকদিন ধরে তিনি সর্দি-কাশিতেও ভুগছিলেন।

দিনাজপুর : দিনাজপুরের বিরামপুরে এক ব্যক্তি করোনা সন্দেহে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন। তার বাড়ি বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের তপসী গ্রামে। তার নাম ফরহাদ হোসেন অপি। বয়স ৪০। তিনি গত কয়েকদিন আগে কুমিল্লা থেকে জ্বর, সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে আসে। বিষয়টি সে গোপন রেখেছিল।
গতকাল সোমবার ভোরে তিনি রাতে মারা যান।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আচোলকোল গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে দিনমজুর ফরহাদ হোসেন তাজির (৩৫) নিজ বাড়িতে সর্দি, জ্বর, কাশি, ডাইরিয়া ও জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার সকালে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাবার মৃত্যুর দুই ঘণ্টা পর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর রাতে উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের সীতাহরণ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সীতাহরণ গ্রামের সাত্তার মিয়া (৯০) ও তার একমাত্র ছেলে ফজলুল হক (৪০)। ঘটনার পর এদিন সকালে নামাজে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে বাবা-ছেলেকে পাশাপাশি স্থানে দাফন করা হয়।

চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী বাটা সু’র ডিলার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) জ্বর ও সর্দি, গলাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, সর্দি ও গলাব্যথায় তিনি ভুগেছেন। গতকাল সোমবার সকালে তিনি মারা গেছেন বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
 

প্রেসটািইম/ইএফ

পাঠকের মন্তব্য