'করোনায় অন্ধকার নয় আলো দেখল জালালপুর স্কুল'

 

করোনায় পৃথিবী যখন স্থবির, একটু বেঁচে থাকার তাড়নায় মানুষ যখন অস্থির, যখন মানুষ করোনা মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, যখন বাংলাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে; ঠিক তখনই যেন জালালপুর স্কুলকে আলোর বারতা দিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল।

বরিশাল জেলার  মুলাদী থানাধীন  নাজিরপুরের পূর্ব সীমানায় অবস্থিত জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত করেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী  প্রফেসর মোঃ রোকনুজ্জামান (আজাদ) পরিসংখ্যন বিভাগ, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়'কে।  এমন একটা সময় তাকে দায়িত্ব দেয়া হয় যখন ৫০ বছর পার হয়েছে। কিন্তু  বিদ্যালয়ের পরিচিতি একটি মনোগ্রামও ছিলোনা। হিসাবের   খাতা পরে ছিলো শুন্যের কোঠায়।ছিলোনা বইয়ের হিসেব । সে মুহুর্তে  তার আগমনে যেন প্রান ফিরে পেয়েছিল বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন “জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলামনাই এ্যসোসিয়েশন”।

তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করার জন্য এলামনাই এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক খান মোঃ ফেরদৌসুর রহমান মহা পরিচালক, পূর্ত অধিদপ্তর অনলাইনে  একটি সভার আহ্বান করেন। সভায় নবনিযুক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি তার বক্তব্যে  বিদ্যালয়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে  নিন্মোক্ত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন ।
১। একটি আধুনিক মানসম্পন্ন কম্পিউটার ল্যাব 
২। সার্বক্ষনিক বিদ্যূৎ ব্যবস্থা।
৩। ভোকেশনাল শাখা অনুমোদন (প্রক্রিয়াধীন)।
৪। শাখা অনুমোদন (প্রক্রিয়াধীন)। 
৫। প্রিন্টার ,ফটোকপি মেশিন ,স্ক্যনার, ফ্রিজ ও ওভেন ইত্যাদি ।


সাথে সাথেই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের লক্ষ্যে তার চাহিদাপুরন করার কথা জানায় এলামনাইয়ের সদস্যরা। তার দাবীগুলো পুরন করার জন্য যেন প্রতিযোগিতা লেগেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি  শিক্ষার্থী গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব জনাব মোঃ হেমায়েত উদ্দিন খোকনের শ্রদ্ধেয় পিতা “আলমগীর-সালেহা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে”র চেয়ারম্যান   বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ আলমগীর হোসেন তার ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে বিদ্যালয়ে দুই টনের দুটি এসি প্রদান করেন। 

প্রাক্তন  শিক্ষার্থী পূবালী ব্যাংকের এজিএম জনাব মোঃ রুহুল আমিন ফটোকপি মেশিন প্রদান করেন। প্রবাসী আজাদ খান কিনে দেন ওয়ালটন ব্রান্ডের 11.5 cft ফ্রীজ। প্রাক্তন  শিক্ষার্থী  জনাব আয়ুব আলী খান জেনারেটর ক্রয় করে রেখেছেন। প্রাক্তন  শিক্ষার্থী  প্রবাসী বাকিউল্লাহ খান রিপন ৩টি ল্যাপটপ ,১টি স্ক্যনার,১টি প্রিন্টার , ২টি মডেম সহ সংশ্লিষ্ট সকল উপকরন প্রদান করেন।

ভোকেশনাল শাখা খোলার জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাঁচ লক্ষ টাকার জামানত প্রদান করেন এলামনাইয়ের স্বচ্ছল সদস্যগন। মাত্র কয়েক মাসেই যেন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  এলামনাইয়ের আইটি বিভাগ থেকে স্কুলের জন্য উন্নত ও অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি ওয়েবসাইট  jalalpurhighschool.org তৈরি করা হয়। 

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযুক্ত শিক্ষার্থী  গড়ে তোলাই যেন সভাপতির ব্রত । একান্ত স্বাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমাদের  সৎ ইচ্ছে থাকলে আমরা আমাদের প্রানের বিদ্যাপিঠের  সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারবো। সকলের সহযোগিতা পেলেই এটা সম্ভব।
 
এলামনাই সভাপতি ডাক্তার মোঃ রুহুল আমিন খান প্রেস টাইমকে বলেন, জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নেও আমরা সাধ্যমত  চেষ্টা করবো । ৩রা মে, ২০১৯ সালে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা  শুরু করি। তার পর থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যালয়ের এবং সমাজের জন্য ভালো কিছু করার ।
 
শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ঠিকভাবে সরকার নির্দেশিত অনলাইনে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না তখন নদী বেষ্ঠিত এই লোকালয়ে নিয়মিত অনলাইন পাঠদান যা সবাইকে বিস্মিত করেছে । এ যেন অন্ধকারে এক আলো ।

পিটি/এএস/আরএইচ

পাঠকের মন্তব্য