আহত প্রিন্স (নয়ন গ্রুপ)

চরফ্যাশনে ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তেজনা।ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আহত ৪

ভোলার চরফ্যাশনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার ২১ আগস্ট উভয় কমিটির নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে।এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছে।

উল্লেখ্য গত ১৮ আগস্ট  ভোলা জেলা ছাত্রদল  চরফ্যাশন উপজেলার তিনটি ইউনিট এর আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে।জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ নুরে আলম  এবং  সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন হাওলাদার স্বাক্ষরিত চরফ্যাশন উপজেলা কমিটিতে মোহাম্মদ আরিফ ফরাজী কে আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ অনিক কাজীকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।একই দিন চরফ্যাশন পৌরসভা ও চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। চরফ্যাশন পৌরসভা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটিতে মোহাম্মদ নুরুদ্দিন আখনকে আহবায়ক ও ইয়াজুল ইসলামকে সদস্য সচিব এবং চরফ্যাশন সরকারি কলেজে মোহাম্মদ এমরান ফরাজীকে আহ্বায়ক ও মোঃ মেহেদী হাসান মিয়াজীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার পরপরই চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপি জেলা ছাত্রদল ঘোষিত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে।তারা দাবি করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আলম সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়াসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সুপারিশকৃত কমিটিকে জেলা ছাত্রদল উপেক্ষা করেছে।তাই তাৎক্ষণিকভাবে চরফ্যাশন উপজেলা চরফ্যাশন পৌরসভা ও চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এই  তিনটি ইউনিটে উপজেলা বিএনপির সুপারিশকৃত তিনটি কমিটিকে বহাল রেখে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া।এতে ছাত্রদলে বিভক্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ প্রসঙ্গে  চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা জানান, যদিও ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ছাত্রদল উপজেলা ও অন্যান্য ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়ে থাকে। কিন্তু রীতি অনুযায়ী মূল দল বিএনপি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্য থেকে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে বাছাই করে ছাত্রদলের কমিটির জন্য সুপারিশ করে। এটি কেন্দ্র থেকে শুরু করে সকল মহানগর-জেলা-উপজেলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়। উপজেলা বিএনপি'র সিনিয়র এই নেতা জানান রীতি অনুযায়ী ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির কথা চিন্তা করে দলের মেধাবী ও ত্যাগী নেতাদের বাছাই করে একটি কমিটি অনুমোদন করে জেলা ছাত্রদলের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক তিনবারের এমপি নাজিম উদ্দিন আলম উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম মিন্টিজ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া স্বাক্ষর করেন।কিন্তু জেলা ছাত্রদল এই কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রদলের অচেনা অজানা নামকাওয়াস্তে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় এবং আওয়ামী ভাবধারায় বিশ্বাসী একদল উশৃংখল যুবককে দিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা পৌর ও চরফ্যাশন সরকারি কলেজ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইউনিট এর আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করে। ছাত্রদলের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি সংগঠন এ ধরনের অপরিণামদর্শী ছাত্রনেতাদের দ্বারা পরিচালিত হতে পারেনা। এবং আমরা ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ইউনিটের  শৃঙ্খলা এভাবে নষ্ট হতে দিতে পারি না।তাই উপজেলা বিএনপি'র সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা নেতৃবৃন্দের অনুমোদনকৃত ছাত্রদলের কমিটি কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।গত ১৮ আগস্ট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও  কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সমর্থিত কমিটির চরফ্যাসন উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আরিফ ফরাজী ও সদস্য সচিব অনিক কাজী জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদক আমাদের কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।গঠনতন্ত্রঅনুযায়ী উপজেলা বিএনপি ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করতে পারেনা।জেলা কমিটি কর্তৃক ঘোষিত আমাদের কমিটি দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ এবং দলের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আমরা ইউনিয়নসমূহের কমিটি গঠন করে কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা কমিটি গঠন করবো। এসয় উপজেলা বিএনপি কর্তৃক ঘোষিত কমিটি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।তাদের এক পরিচিতি সভায়  বিদ্রোহী  কমিটির সদস্যরা হামলা করেছে বলে  তারা দাবি করেন।তারা বলেন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিদ্রোহীরা পালিয়ে যায়। তাদের কমিটিতে আওয়ামী ভাবধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তারা নাকচ করে দেন। তারা বলেন ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত কেউ আমাদের কমিটিতে নেই।চরফ্যাশন উপজেলার স্বচ্ছ ছাত্রদল কর্মীদের নিয়েই আমাদের কমিটি গঠিত হয়েছে।

শুক্রবারের হামলা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপি ঘোষিত ছাত্রদলের চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক আলী মর্তুজা জানান আমাদের কিছু নেতা কর্মী শান্তিপূর্ণভাবে বাজারে অবস্থান করছিল এসময় আকস্মিকভাবে নয়ন সমর্থিত কথিত  ছাত্রদল কমিটির উসৃঙ্খল নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের সহায়তায় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।এতে আমাদের ৪/৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।এরপর আমাদের নেতাকর্মীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় আমরা উপজেলা নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক ভাবে আমাদের নেতাকর্মীদেরকে অবস্থান থেকে সরে আসতে নির্দেশনা দেই এতে পরিস্থিতি শান্ত হয়।দলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্রদলের জেলা কমিটি দলের সকল রীতি-রেওয়াজ ভঙ্গ করে উপজেলা বিএনপিকে উপেক্ষা করে অছাত্র ও আওয়ামী ভাবধারায় বিশ্বাসী একদল উশৃংখল যুবকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ঘোষণা করেছে। চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদল সেই কমিটিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসা উপজেলার সকল ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ উপজেলা বিএনপি ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিকে মেনে নিয়েছে এবং তার আলোকে আমরা ইউনিয়ন কমিটি সহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।স্বল্প সময়ের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের সকল ইউনিট কমিটি গঠন করে আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য ছাত্রদলকে ঢেলে সাজানো হবে এবং ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি চরফ্যাশনে ছাত্রদের মাঝে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

এদিকে উপজেলা ছাত্রদলের এই পাল্টা পাল্টা কমিটি ও সংঘর্ষের ঘটনায় বিব্রত তৃণমূল বিএনপি, ছাত্রদল ও সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই পরিস্থিতির উত্তরণ হওয়া জরুরী।অন্যথায় চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদল ও বিএনপিতে বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

পাঠকের মন্তব্য