আটক রাকিব; ইনসেটে নিহত তানজিলা

তানজিলা হত্যার প্রধান আসামি রাকিব গ্রেফতার

ভোলার চরফ্যাশনে আলোচিত সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী তানজিলাকে (১৩) অপহরণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার(২১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে এস আই ইয়াছিন পাইকের নেতৃত্বে চরফ্যাশনের নতুন বাস স্ট্যান্ড থেকে অন্যত্র বাসযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়।  

উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই চরফ্যাশনের চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের চর আফজাল গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে তানজিলা (১৩) বেলা ২টায় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা কিশোর গ্যাং প্রধান স্থানীয় বখাটে রাকিব তার সহযোগীদের নিয়ে পথিমধ্যে তানজিলাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

বখাটেদের হাত থেকে বাঁচার জন্য চলন্ত মোটরসাইকেলে ঝাঁপটা-ঝাঁপটির এক পর্যায়ে চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডে পাকা রাস্তায় পড়ে যায় তানজিলা।গুরুতর আহতাবস্থায় রাস্তায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় রাকিব ও তার সহযোগীরা।

এরপর স্থানীয় লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিমে নেয়ার পথে ঐদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তানজিলার মৃত্যু হয়। পরদিন পোস্টমর্টেম শেষে চরআফজাল গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তানজিলার বাবা ও মামলার বাদি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার মেয়ে তানজিলাকে অপহরণের পর মোটরসাইকেল থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাকিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমার নিষ্পাপ মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে দিলনা বখাটে রাকিব ও তার সহযোগিরা। আমি চাই তার ফাঁসি হোক। তবেই আমার তানজিলার আত্না শান্তি পাবে। মামলার অন্যান্য আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

চরফ্যাসন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শামসুল আরেফিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাকিব অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় চরফ্যাসন নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে চরফ্যাসন থানায় আটক আছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এলাকার কর্মহীন বখাটে ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলে রাকিব। দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এই কিশোর গ্যাং। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও নারীর শ্লীলতাহানীসহ চাঁদাবাজি ছিনতাই ইভটিজিং ও মাদক চালানের  অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। কিশোর গ্যাং রাকিব চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। স্থানীয় কিছু উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে তার যোগসাজস রয়েছে বলে জানা যায়।

 এদিকে  অপহরণ ও মর্মান্তিক  হত্যাকান্ডের  প্রধান আসামি রাকিব গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী ও তানজিলার  সহপাঠীরা। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা। পাশাপাশি এলাকায় কিশোর গ্যাং রাকিব চক্রের তৎপরতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

পাঠকের মন্তব্য