দিনাজপুরে ৪র্থ শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী জামায়াতের ডোনার মামুনের অবৈধ সম্পত্তির পাহাড়! 

গম ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট এর ল্যাবরেটরির এটেন্ডেন্ট, মামুন। পদে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হলেও চলেন বিলাশবহুলভাবে। যদিও বেতন মাত্র ১৯ হাজার টাকা টাকা। তারপরও দিনাজপুর উত্তর জামাতের অনেক বড় ডোনার সে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শুধু জামাতকেই তাদের বাৎসরিক ডোনেশন বাবদ দিয়েছে ১ লাখ টাকা। এছাড়া স্থানীয় শিবিরকেও দিয়ে আসছেন নিয়মিত ইয়ানত( চাঁদা)।

দিনাজপুর উত্তর জামাতের অফিস থেকে মামুনের ডোনেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রমানাদির তথ্য পাওয়া যায়। পরে এসব নিয়ে অনুসন্ধানে নামলে শিবির- জামাতের সাথে মামুনের সংশ্লিষ্টতার আরো বেশ কিছ বিষয় বের হয়ে আসে।এপর্যন্ত মাসিক চাদা হিসেবে জামাত শিবিরকে নিয়মিত দেয়া বেশ কিছু রশিদ পাওয়া যায়, যাতে দেখা যায় মামুন প্রত্যেক মাসেই মামুন শিবিরকেই দিয়ে আসছে মাসিক এক হাজার টাকা করে। আর জামাতকেও দিয়ে আসছে সমপরিমান টাকা।তবে বছরে এককালীন ১ লাখ টাকা ডোনেশনের রশিদ পাওয়া গেছে দিনাজপুর উত্তর জামাতের ইয়ানত বইয়ে। এছাড়াও মামুন (৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী) এর রয়েছে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় (কৃষিগবেষনার পেছনে) গিলাতলা মৌজায় সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লট, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লাখ। সেখানে চলছে বাড়ি নির্মানের কাজ। কাহারোল উপজেলার ৫ নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের নিজ গ্রামে চলছে ৫ তলা ভবনেরও কাজ।এরইমধ্যে শেষ হয়েছে ২ তলার নির্মাণ কাজ। ঢাকায় যাতায়াত করেন বিমানে। দিনাজপুরের সাদিয়া এভিয়েশনের ভিআইপি কাস্টমারদের তালিকায় মামুনের নাম সবার উপরে। এবিষয়ে সাদিয়া এভিয়েশনের ম্যানেজার বিল্লাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ মামুন স্যার তো আমাদের ভিআইপি কাস্টমার, প্রত্যেক সপ্তাহেই তার জন্য একটা করে টিকিট বরাদ্দ থাকেই’।  

অভিযোগ রয়েছে দিনাজপুরের কাহারুচ উপজেলার ৫ নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবিরের সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় মামুন ২০০৪ সালে তৎকালিন জামাতের সাংসদ আব্দুল কাফির সুপারিশে চাকুরি পান ল্যাবরেটরি এটেন্ডেন্ট হিসেবে। অফিসিয়াল দায়িত্ব হিসেবে ল্যাবরেটরি সহায়ক হওয়ায় ল্যাব এর চাবি তার কাছে থাকায় ক্যামিক্যাল চুরির অভিযোগে তাকে শাস্তি হিসেবে পোস্টিং করে হয় দিনাজপুরে। তবে সেখানে এসে বনে যায় কর্মচারীদের নেতা। তারপর থেকেই তার উত্থান। ভাইয়ের নামে কোম্পানি করে (বাংলাদেশ সায়েন্স হাউজ) গম ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউটেই শুরু করেন ক্যামিক্যাল সাপ্লাই ব্যবসা। সেইসাথে অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ড. নুর আলম ও মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়ালের সহায়তায় চলে তার একক ব্যবসা। নামে-বেনামে বিল, বিভিন্ন নামে ডিপিএম’র মাধ্যমে কোন টেন্ডার বা রেড কোটেশন ছাড়াই বিল দেখিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন আর এখনো নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।

২০১৮ সালে শুধু মামুনের প্রতিষ্ঠান ক্যামিক্যাল সাপ্লাই করেছে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যদিও অভিযোগ রয়েছে, একই ক্যামিক্যাল বার বার ক্র‍য় দেখিয়ে নুরে আলম ও আব্দুল আওয়াল এর যোগসাযোসে কোন ক্যামিক্যাল না কিনেই এই বিলগুলো তুলেছেন। বিআরসিএ সুত্র থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে ল্যাবের ক্যামিক্যাল চুরির অপরাধের শাস্তি হিসেবে পোস্টিং করা হয় দিনাজপুরে।শাস্তি হলেও নিজ এলাকা হওয়ায় এই পোস্টিং তার জন্য অনেকটা সুখেরই হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়িয়ে ফেলেন নিজস্ব প্রভাব।


ল্যাব এটেডেন্ট হয়েও পুরো ল্যাবরেটরীর চাবি রাখেন নিজের কব্জায়, নিয়ম করে প্রত্যেক তিন মাস আর ৬ মাস পর পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজোসে বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকার ক্যামিক্যাল কেনা ও অন্যান্য কাজের ব্যবস্থা করা হয়। যদিও নিয়ম অনুযায়ী ১০ লাখ টাকার বেশী মূল্যের কোন কিছু ক্রয়- বিক্রয়ে টেন্ডারের বিধা্ন থাকলেও তা না করে প্রত্যেকবারই এটেডেন্ট মামুনের এপরেই পড়ছে এই ক্যামিক্যাল কেনা ও বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব। ক্রয় কমিটিতে মামুন গংয়ের আব্দুল আউয়াল ও নুর আলম থাকায় যার বিলও আসে অনেক কাজ না করেই। তবে, মামুনের নামে গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জামাতের পিকেটিং এবং গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ থাকায় বাসায় যৌথবাহিনীর অভিযান চালানোর ফলে বাসায় না থেকে প্রতিষ্ঠানের রেস্ট হাইজের ২০৮ নম্বর দখল করে রয়েছেন এখন পর্যন্ত।


এসব বিষয়ে কথা বললে মামুন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন বন্ধ করে দেন। পরে একাধিকবার ফোন দিলেও আর ফোন রিসিভ করেন নি।

অভিযোগ রয়ছে,প্রতিষ্ঠানটির (পূর্ব পরিচিত)পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ আব্দুল আওয়াল মামুনকে দিয়েই করাচ্ছেন এসব কর্মকান্ড। ২০১৮ তে এনএটিপি প্রজেক্ট এ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি সংযুক্তি করে পাঠানো হয় দিনাজপুরের গম ভুট্টা গবেষণায়। এত এত অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও কেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা? এবিষয়ে গম ভুট্টা গবেষণা কেন্দ্রের মহাপরিচাল ড.এছরাইল হোসেন এর সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও কোন প্রকার যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি ।


এর আগে একাধিকবার স্থানীয় বেশি কিছু পত্রিকায় এসব নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

সূত্র: channelnewsday

পাঠকের মন্তব্য