গুরুগ্রাম কাঁপিয়ে দিল্লির পথে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল

এবার পঙ্গপালের হানা হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এরপর দিল্লিও ছেয়ে যাবে পঙ্গপালে। আর তাই ইতিমধ্যে রাজধানীতেও জারি হয়েছে সতর্কবার্তা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই এই পঙ্গপাল হানা আরো চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনের। জানা গেছে, শুক্রবার রাত থেকেই দিল্লির পার্শ্ববর্তী হরিয়ানার দুই শহর গুরগাঁও এবং ফরিদাবাদে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপালের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। তারপরই সতর্কবার্তা জারি হয় রাজধানীতে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দিল্লির পাশের এই শহরের গাছপালা পুরোপুরি ছেয়ে গেছে পঙ্গপালে। এই পঙ্গপালের হানায় প্রচুর পরিমাণ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে হরিয়ানা প্রশাসন। গুরগাঁও কৃষি দপ্তরের কর্মীদের বিভিন্ন গ্রামে পাঠিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেখানে এই সংক্রান্ত একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। পঙ্গপাল এলেই তাদের মারতে তৈরি হচ্ছে প্রশাসন। শুক্রবার গুরুগ্রাম প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে আওয়াজ করে পঙ্গপালদের তাড়াতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘‌পঙ্গপালের একটি ঝাঁক মহেন্দ্রগড় জেলায় প্রবেশ করেছে। আশা করা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি তারা রেওয়ারি সীমান্তে পৌঁছে যাবে। এই পরিস্থিতিতে গুরগাঁও প্রশাসনের তরফে সব বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, বাড়িঘরের জানলা–দরজা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে। সেইসঙ্গে পঙ্গপাল এলেই থালা, বাসন, টিন, ঢোল, যা পাবেন তা বাজাতে থাকুন। তাহলে এক জায়গায় পঙ্গপালরা বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না।’‌

চাষিদের উদ্দেশেও নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। বলা হয়েছে, ‘‌চাষিরা তাদের জীবাণুনাশক স্প্রে করার পাম্প তৈরি রাখুন। পঙ্গপাল এলেই কোনও উঁচু জায়গায় উঠে তা ছড়াতে থাকুন। প্রশাসনের তরফেও স্প্রে করা হবে।’‌ ইতিমধ্যেই পশ্চিম, উত্তর ও মধ্য ভারতের একাধিক রাজ্য যেমন মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশে পঙ্গপালের হানায় প্রচুর ফসল নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দারাও খুব সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১১টি কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। এবার পালা হরিয়ানা এবং দিল্লির। একেই করোনা সংক্রমণের কারণে দেশবাসীর অবস্থা নাজেহাল। তারমধ্যেই পঙ্গপালের হানা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে, ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পঙ্গপাল হানা দিয়েছে। এরা মূলত অনেকটা নিচ দিয়ে উড়ে যায়। বেশি ওপরে উঠতে পারে না। তাই বিমান ওঠা–নামার সময় রানওয়ে চত্বরে তারা হানা দিলে অসুবিধা হতে পারে বিমানচালকদের। তাছাড়া দিল্লি বিমানবন্দরও গুরগাঁওয়ের পাশে। ফলে সাবধানে বিমান ওঠা–নামার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল। পঙ্গপাল হানার কথা মাথায় রেখে বসানো হয়েছে মনিটরিং টিমও। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

পাঠকের মন্তব্য