বাংলাদেশ কি 'হার্ড ইমিউনিটি'র পথেই হাটছে?  

একটা সময় ছিলো সরাকরি দল অঘোষিত হরতার অবরোধ করেছে  দিনটা বেশি দিন আগের নয় কয়েক বছর আগের হবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা দিয়েছিলো যা ৩০ তারিখের পর আর থাকছেনা। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যাদের সীমিত আকারেটা বুঝা অনেক কষ্টকর, সাধারন মানুষ আসলে সীমিত আকারটা বুঝেনা যে ক'দিন সাধারন ছুটি ছিলো তার মধ্য দিয়েও ব্যবসায়ীদের চাপে এই কথিত সিমিত আকার শব্দের মাধ্যমে দেশে চলেছিলো সাধারণ ছুটি। 

সরকার প্রথমে ঘোষনা দিলো ৩০ তারিখের পর আর সাধারণ ছুটি থাকছেনা অফিস আদালত সব খুলে দেওয়া হবে। তারপর আবার ঘোষণা আসলো সিমীত আকারে গণ পরিবহণ চালু রাখা হবে।  এই সিমীত শব্দটার বিশ্লেষন করার ক্ষমতা আমার নেই, যাই হোক কয়েকদিন যাবৎ মিডিয়া পারায় একটা সংবাদ ঘুরছে নানান ভাবে এই শব্দটিও কোয়ারেন্টাইন বা লকডাউনেরমত করে নতুন বাঙালিদের জন্য। মাত্র ২ টা শব্দ 'হার্ড ইমিউনিটি'। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেনের মতো দেশ হার্ড ইমিউনিটির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভেবেছিল। শুরু থেকেই সুইডেনে তেমন একটা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এটা এখনো স্বীকৃত কোন পদ্ধতি নয়। তবে অনেকে মনে করেন যে এটা একটা উপায় হতে পারে। যেমনটা মেনে করেন বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ভাইরোলজিস্ট প্রফেসর নজরুল ইসলাম তিনি বলেছেন, সংক্রমণের যে প্যাটার্ন বা গ্রাফ দেখা যাচ্ছে তাতে 'হার্ড ইমিউনিটি' না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

হার্ড ইমিউনিটি আসলে কি?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেছেন, ইংরেজি হার্ড শব্দটি এসেছে ভেড়ার পাল থেকে। আর ইমিউনিটি হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

তিনি বলেন, ভেড়ার পালকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে টিকা দেয়া হতো। একশটি ভেড়ার মধ্যে যদি ৮০টিকে টিকা দেয়া হতো তাহলে সংক্রমণ আর ওই ভেড়ার পালে ছড়াতো না। যদিও একশটির প্রত্যেকটিকে টিকা দেয়া হয়নি, তারপরও তাদের মধ্যে এক ধরণের সুরক্ষা বলয় কাজ করতো। এটাই হচ্ছে হার্ড ইমিউনিটি। মানুষের ক্ষেত্রে বলা যায়, যখন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি নির্দিষ্ট অনুপাতে ভ্যাকসিন বা টিকা দেয়া যায়, তাহলে ওই কমিউনিটিতে আর সংক্রমণ হয়না। একে বলে হার্ড ইমিউনিটি।

একটি সম্প্রদায়ের কারো মধ্যে যদি হাম দেখা দেয়, আর বেশিরভাগ মানুষের যদি টিকা দেয়া থাকে তাহলে ওই রোগটি আর কারো মধ্যে ছড়াতে পারে না। এটাই হার্ড ইমিউনিটি বা কমিউনিটি ইমিউনিটি। এর কারণে নবজাতক শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষ যাদেরকে টিকা দেয়া সম্ভব নয় তারা রোগমুক্ত থাকেন।
হার্ড ইমিউনিটি কিভাবে কাজ করে?

হার্ড ইমিউনিটি তখনই কাজ করবে যখন একটি গোষ্ঠীর বেশিরভাগ মানুষকে প্রতিষেধক দেয়া থাকবে। যেমন- হামের ক্ষেত্রে প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১৯ জনকেই যদি প্রতিষেধক দেয়া যায় তাহলে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠবে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে হলে ৯০ ভাগের বেশি সংখ্যক মানুষ এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি ২.৫ জন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে।
করোনাভাইরাসে হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে অন্তত ৯০ ভাগ মানুষ সংক্রমিত হতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে ৯ জন আক্রান্ত হতে হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি হতে হলে যদি এখানে ১৭ কোটি মানুষ থাকে তাহলে প্রায় ১৬ কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে হবে।

কারণ ১৬কোটি মানুষ আক্রান্ত হলে এদের মধ্যে যদি ০.০০১ ভাগ মানুষেরও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তাহলে যে বিশাল সংখ্যক মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার হবে বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তবতায় সেটা সরবরাহ করা অসম্ভব । 

তবে এই বিষয়ে ডা. রেদওয়ানুর রহমান বলেন, ১০ থেকে ১২ কোটি আক্রান্ত হলে ১ শতাংশ মারা যাবে। কারণ আমাদের দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো না।

আর এ কারণেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে মারাত্মক হারে। যদি ১২ কোটির ১% জনসংখ্যা মারা যায় তাহলে মারা যাবে কম্পক্ষে ১২ লাখ মানুষ।  আর ১৬ কোটি হলে ১৬ লাখ মানুষ।

সাধারণ মানুষকে তথ্য মন্ত্রনালয় বলেছেন, যেন সমালোচনা না করা হয়? আমি কারো সমালোচনা করছিনা তবে ৩০ তারিখের পর যা ঘটতে চলেছে তা কি হার্ড ইমিউনিটি'র অংশ মনে করতে পারি না? এটা বাংলাদেশ কেন কোন রাষ্ট্রই হয়তো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিবে না আমরা হার্ড ইমিউনিটির দিকে হাটছি। কিন্তু করোনার যেমন কিছু উপসর্গ দেখা দেয় তেমনি করে সবকিছু খুলে দেওয়াকে আমার কাছে হার্ড ইমিউনিটির অপসর্গ ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না। 

আজও দেশে ২ হাজারের অধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ ছুটির মধ্যদিয়েও, তাহলে যখন সব খুলে দিবে তখন এটা কিভাবে ছড়াবে? আল্লাহ এমন দিনের মুখামুখি না করুক তখন হয়ত মৃত্যুর সংখাটা বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যার সমপরিমানে পৌছাতে পারে।

সরকার বলছে সিমীত আকারে গণপরিবহন চলবে এটাও কি সম্ভব? সব খোলা থাকবে আর মানুষ গণপরিবহনে যাবেনা? যে ব্যক্তির বেতন ১০ হাজার টাকা সে ব্যাক্তি ১০ টাকার বাস ভাড়ায় না গিয়ে ১০০ টাকার রিক্সা ভাড়া দিবে? 
যাই হোক সকারের সিদ্ধান্তের বাহিরে রাজনৈতিক দল মুখ খোলার সাহস দেখাবে না। আপনি আমি সাধারণ মানুষ কি করবো? হয় না খেয়ে মরবেন না হয় করোনায় আক্রন্ত হয়ে!

সবশেষ সেই প্রথম কথায় যেতে চাই, 'হার্ড ইমিউনিটি' যেন সরকারের অঘোষিত হরতাল বা অবরোধেরমত গোপনে না চলে।   

পাঠকের মন্তব্য