কাশ্মিরে ১ মাসে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১১ সদস্য নিহত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে গেরিলা তৎপরতা বাড়ছে। পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসেই সেখানে অন্তত ১৭টি গেরিলা তৎপরতা চলেছে। এতে ২৯ গেরিলা নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। এদিকে, কাশ্মিরে মে মাস ভারতীয় বাহিনীর জন্য ভালো ভাবে শুরুও হয় নি। কুপওয়ারা জেলার হান্ডওয়ারায় শনিবার শুরু হওয়া সংঘর্ষে দুই গেরিলা নিহত হলেও ভারত একজন কর্নেল, একজন মেজরসহ পাঁচজনকে হারিয়েছে। করোনা যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে গোটা ভারতের হাসপাতালগুলোতে ভারতীয় সেনা বাহিনী উদ্যোগে পুষ্পবর্ষণের দিনেই এ খবরটি প্রকাশিত হয়।

এক মাস সময়ের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা কাশ্মিরে গেরিলাদের ফাঁদে প্রাণ হারালেন ভারতীয় সেনা সদস্যদের একটি দুর্ধর্ষ দল। গত মাসের ৫ তারিখে কাশ্মিরে গেরিলা বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে ভারতীয় দুর্ধর্ষ কমান্ডো বাহিনী স্পেশাল ফোর্সেসের একটি দলের পাঁচ সদস্যের সবাই নিহত হয়েছিলেন। পাশাপাশি কাশ্মিরি গেরিলা গোষ্ঠীর একজন সম্ভাব্য পথনির্দেশকসহ পাঁচ জনের সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৬ সালে কথিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে অংশ নিয়েছিলেন এ পাঁচ কমান্ডোর সবাই।

এ ছাড়া, ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারভানের কাশ্মিরে দুদিনের সফরের সময়ও সেখানে চার দফা  গেরিলা হামলা হয়েছে। গত মাসের ১৯ তারিখে সন্ধ্যায় কাশ্মিরের উত্তর-পশ্চিম সোপোর এলাকার এক সামরিক চৌকিতে মোটরসাইকেল আরোহী দুই  বন্দুকধারী গুলি চালালে তিন সেনা নিহত এবং দুই সেনা আহত হয়েছেন। তবে আহত ভারতীয় সেনাদের অবস্থা কি তা খবরে উল্লেখ করা হয় নি। হামলাকারীরা নিরাপদে সটকে পড়তে সক্ষম হয়েছিল।

গত আগস্টের ৫ তারিখে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন আধা স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই কার্যত লকডাউনে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মির।

কাশ্মিরে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা প্রেরণের পাশাপাশি, কঠোর কারফিউ বলবত করে নয়াদিল্লি । টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। কাশ্মিরের রাজনৈতিক নেতা এবং স্বাধীনতাকামীদেরকে গ্রেফতার করে। 

সাত দশক আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ হওয়ার পর নয়াদিল্লি কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মোদী এবং তাঁর উগ্র হিন্দুবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের বিরোধিতা করছে।
 

পাঠকের মন্তব্য