চিকিৎসার অনুমোদন না দেয়ায় ৫৪ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

প্রেসটাইম২৪: গত বছর ইসরাইলের কাছ থেকে চিকিতসার অনুমোদন না পাওয়ায় চিকিতসার অভাবে মৃত্যু ঘটেছে কমপক্ষে ৫৪ ফিলিস্তিনির। গাজা নিবাসীদের শ’ শ’ চিকিৎসা বিষয়ক অনুমোদনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল ইসরাইল। তারা গাজার বাইরে চিকিৎসা করানোর জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। মানবাধিকার সংগঠনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

মঙ্গলবার এক যৌথ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস, গাজা-ভিত্তিক আল মেজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, মেডিক্যাল এইড ফর প্যালিস্টেনিয়ানস(এমএপি) ও ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ফর ইসরায়েল(পিএইচআরআই), গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ২০১৭ সালে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজা ও ইসরাইলজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো সংশ্লিষ্ট যে পরিমাণ আবেদন পেয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।

পুরো বছরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে ২৫ হাজারেরও বেশি আবেদন পাঠানো হয়। এর মধ্যে প্রত্যাখ্যান করে দেয়া হয় ৭১৯ টি। বেশিরভাগ আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পেছনে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট যুক্তি দেখানো হয়। এছাড়া, এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ১১ হাজার ২৮১টি আবেদন। আল মেজান এর পরিচালক স্বামীর জাকৌত বলেন, জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা দরকার এমন রোগীদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পেছনে মূলত কোন যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের চলাফেরার স্বাধীনতার সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে ইসরাইলের। তারা যখন গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করে তখনই তারা সকল গাজা-বাসীর চলাফেরার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। পাশাপাশি, অসুস্থদের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের শাস্তি দিচ্ছে।

২০০৭ সালে গাজার ওপর হামাসের আধিপত্য নষ্ট করতে অঞ্চলটিতে জলপথ, আকাশপথ, ও নৌ-পথে অবরোধ জারি করে ইসরাইল। গাজা-বাসীর জন্য এরপর একমাত্র পথ খোলা ছিল মিশরের সঙ্গে যুক্ত থাকা টানেলগুলো। তবে ২০১৩ সাকলে মিসর ওই রাস্তা বন্ধ করে দিলে স¤পূর্ণরুপে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গাজার জনগণ। বর্তমানে একমাত্র বিকল্প রাস্তা হচ্ছে ইরাজ ক্রসিং ।