শেখ হাসিনার প্রশ্ন; আমাকে কেন গালি দেওয়া?

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কোর্ট বিচার করেছে, রায় দিয়েছে। এতে আমাকে গালি দেওয়া বা আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কী যুক্তি থাকতে পারে, সেটা তো আমরা বুঝি না।’গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে ইতালির রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনায় এই কথা বলেন শেখ হাসিনা।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এঁদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই মামলা তো আওয়ামী লীগ দেয়নি। ২০০৭-এ মামলা দিয়েছে। ২০০৮-এ মামলা শুরু। ১০ বছর মামলা চলেছে। ২৩৬টা দিন মামলার তারিখ পড়েছে। এই ২৩৬ দিনের মধ্যে খালেদা জিয়া কোর্টে হাজির হয়েছে মাত্র ৪০ দিন। তাঁর আপত্তিতে তিনবার কোর্ট বন্ধ হয়েছে।’ শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে কেন-ই বা রায় নিয়ে সরকারকে দোষারোপ করছে বিএনপি?’ এ ছাড়া স্বাধীন বিচার বিভাগের কারণেই বিএনপি নেত্রী সব ধরনের আইনি অধিকার পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের টাকা আত্মসাৎ করবে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করবে। এতিমের আত্মসাৎ করবে, এটা তো কোরআন শরিফেই আছে, এটা মহাঅন্যায়, এতিমের সম্পদ কেউ আত্মসাৎ করতে পারে না। আল্লাহই বিচার করে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি যারা করবে, সন্ত্রাস যারা করবে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। কারণ বাংলাদেশকে আমরা একটা শান্তিপূর্ণ দেশে আনতে চাই।’ দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন আমরা চাই।বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নত হোক, সেটাই আমরা চাই। সেটা সম্ভব যখন দেশে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, স্বজনপ্রীতি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, দূর করতে পারব। তাহলেই না বাংলাদেশের মানুষের উন্নতি হবে।’ ইতালি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে স্বাগত জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কারণে আজ সারা দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান। আর এই উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশ পিছিয়ে পড়েছিল। কারণ, যারা অবৈধভাবে দেশের নেতৃত্বে আসে, তাঁরা কখনো দেশের উন্নয়ন চায়নি। এর আগে একই দিনে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) ৪১তম পরিচালনা পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।