জীবননগরে তিন বন্ধু মিলে এসএসসি পরিক্ষার্থীকে গণধর্ষণ ও মোবাইলে নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সর্নের অলংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:- জীবননগর উপজেলা আলীপুরের তিন বন্ধু মিলে কথিত প্রেমিকা এসএসসি পরিক্ষার্থীকে গণ ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিককে জনতা আটক করে উত্তম-মধ্যম দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এবং এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।

আরিফ

 

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়,জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রাখাল শাহ পাড়ার মৃত আব্দুস সালামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফের(২৫) জীবননগর পৌরসভার নতুন তেতুলিয়ার আব্দুল হালিমের এসএসসি পরিক্ষার্থী কন্যা হালিমা খাতুনের(১৬) পরিচয়ের সুত্র ধরে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে প্রেমের সুত্র ধরে মোবাইল ফোনে কিংবা কখনও সরাসরি কথাবার্তা চলে আসছিল। এক পর্যায়ে প্রেমিক আরিফ মোবাইল ফোনে হালিমাকে গত রোববার বিকালের দিকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন যায়গায় ঘুড়িয়ে ফিড়িয়ে কৌশলে খয়েরহুদা মাঠপাড়া মাঠের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে পুর্বপরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকে ফাঁদ পেতে থাকে আরিফের দু’বন্ধু জুয়েল(২৩) ও সিরাজুল (২৮)। জুয়েল একই গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আজিলের ছেলে এবং সিরাজুল আব্দুর রশিদ দেওয়ানের ছেলে। হালিমা ওই মাঠে পৌছানো মাত্র তাকে জুয়েল ও সিরাজুল জোরপুর্বক ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে রাখে।

জুয়েল

এ ঘটনার পর তাকে প্রেমিক আরিফও ধর্ষণ করে। তারা তিন বন্ধু মিলে জোরপুর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করার এক পর্যায়ে হালিমার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকারও তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে হালিমাকে মুমুর্ষ অবস্থায় মাঠে ফেলে রেখে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার হালিমা জানায়, আরিফের সাথে তার এক বছর ধরে প্রেম সম্পর্ক চলে আসছে। গত রোববার বিকেলে দিকে মোবাইল ফোনে আমাকে আরিফ ডেকে নিয়ে বিভিন্ন যায়গায় ঘুড়িয়ে ফিড়িয়ে কৌশলে মাঠের ভিতরে নিয়ে যায়। আরিফ ও তার দু’বন্ধু জুয়েল এবং সিরাজুল মিলে আমাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোরপুর্বক পালাক্রমে ধর্ষন করে। এ সময় আমি ডাক চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে তারা বলে সব কিছু মোবাইল ফোনে ভিডিও করা হয়েছে ঘটনার কথা কারো নিকট প্রকাশ করলে তা ফেসবুকে ছেড়ে দেয়া হবে। এ অবস্থায় আমি ভয়ে পরিবারের মান সন্মানের কথা চিন্তা করে কাউকে কোন কিছু না জানিয়ে বাড়ীতে চলে আসি। তারা আমার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে আরিফ আবার আমাকে ফোন দিয়ে বলে তোর গহনাপত্র আমার নিকট আছে সেগুলো নিয়ে যা। আমি ব্যাপারটি পরিবারের লোকজনের নিকট প্রকাশ করি। এ ঘটনায় কৌশলে আরিফকে এলাকার লোকজন আটক করেন।

সিরাজুল

এদিকে ধর্ষক আরিফ ও তার অপর দুই বন্ধু মিলে তারই প্রেমিকা হালিমাকে মাঠের ভিতরে নিয়ে ধর্ষণ ও ভিডিও করার কথাটি উপস্থিত সবার সামনে অত্যন্ত খোলা ভাবেই স্বীকার করে ধর্ষক আরিফ। তাকে এলাকার লোকজন নতুন তেতুলিয়া গ্রামে আটকে রেখে থানা পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে জীবননগর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর, আত্তাব উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষক আরিফকে সমাজের মানুষ আটক করেন। তার দু’বন্ধুকে আটকের চেষ্টা চলছিল। আরিফ ও তার দুই বন্ধু মিলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে মর্মে স্বীকার করেছে। তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।