কেন্দ্রের ২শ’ মিটারের মধ্যে মোবাইলসহ পেলে গ্রেফতার

প্রশ্নফাঁস রোধে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর আধাঘণ্টা আগে যারা পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হবে তাদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে না দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে এব কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে সাথে সাথে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত’ এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, সব জেলা প্রশাসককে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীদের আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বর্ণিত সময়ের পরেও কিছু কিছু কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করছে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে অনেকেই স্মার্টফোন নিয়ে ঘোরাফেরা করছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীর আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ ও আসন গ্রহণ নিশ্চিত করা, ওই সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসরোধে ইন্টারনেট ধীরগতিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সরকার। একদিন পর আজ তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হয়েছে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁস রোধে নেয়া সব পদক্ষেপ ব্যর্থ করে দিয়ে একের পর এক প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হতে থাকে। গতকাল রোববার পর্যন্ত সাতটি পরীক্ষা অনষ্ঠিত হয়েছে এবং সব বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

গত প্রায় এক দশক ধরে বিরামহীনভাবে পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নফাঁস মহামারি আকার ধারণ করেছে। এমনকি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায়ও বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। প্রশ্নফাঁস রোধে ব্যর্থতা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পরীক্ষা মানেই প্রশ্নফাঁস এটিই যেন এখন নিয়ম।