কুয়েতে আ.লীগের কাউন্সিলে বিএনপি- জামায়াতের কাউন্সিলর!

কুয়েত থেকে এস এ রিপন: মধ্যপ্রচ্যের অন্যতম রাজতন্ত্রের দেশ কুয়েত। এই দেশে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা থাকলেও বাংলাদেশের প্রবাসীরা তাদের পছন্দের দলের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কুয়েত আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনকে ঘিরে এখনো চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে হরধমে চলছে প্রচার প্রচারণা মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা গুলোতেও দেখা যায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার।

প্রতিদিন কুয়েত সিটি হোটেলে সন্ধ্যা হতে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে টেবিল বৈঠক আর চায়ের আড্ডা। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা কে হবে সভাপতি কে সাধারণ সম্পাদক।

নতুন, কয়েক মাস, বছর হয়েছে কুয়েতে এসেছে তাদের কাউন্সিলর করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন পুরাতন আওয়ামী লীগের সমর্থক ও নেতাকর্মী। আবার বিএনপি জামায়াত সমর্থক ও নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের কমিটির কাউন্সিলে তাদের কে কাউন্সিলর করা হয়েছে এমনটাই আওয়ামী লীগের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।

কুয়েতে বিভিন্ন সময়ে সকল গ্রুপকে একত্রিত করার জন্য কিছু প্রবীন নেতা চেষ্টা করে আসছিলেন। কুয়েতে বর্তমান রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের একজন বলিষ্ট প্রবীন নেতা। তিনি কুয়েতে আসার পর থেকে কয়েক ভাগে বিভক্ত কুয়েত আওয়ামীলীগ এর সকল গ্রুপের নেতাকর্মী ঐক্যের জন্য রাষ্ট্রদূত এর কাছে দাবী জানায় কুয়েত আওয়ামীলীগ নেতারা। অবশেষে সবার সম্মতিক্রমে একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

১৯ আগষ্ট ২০১৬ কুয়েত সিটির মালিয়ায় হোটেল সুইচ বেল প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে কুয়েতে কয়েক ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে ঐক্য করার লক্ষে আনুষ্ঠানিক ভাবে সকল কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষনা করেন রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম। সেই থেকে রবিউল আলম রবি কে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করে তাদের কাছে দায়িত্ব দেয়া হয়।

দুই মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন করার কথা ছিল। উক্ত নির্বাচন আহবায়ক কমিটি ৪শ ৮৫ জনকে ডেলিকেটর করে একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা করেছে।

জামায়াত শিবির কর্মী ও নতুন প্রবাসীদের কাউন্সির করায় আওয়ামী লীগ কাউন্সিলরদের মাঝে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। কবে নাগাদ ভোট হবে সেটার কোন নির্দিষ্ট কোন সময় নির্ধারণ হয়নি এখনো। গত ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রদূত বরাবরে কাউন্সিল বাতিলের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নতুন ভাবে কাউন্সির করে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার দাবী জানান তারা। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে কুয়েতে স্বনামধন্য কিছু ব্যবসায়ীর নাম।

সভাপতি পদে প্রাথী হলেন, শহিদুল ইসলাম পাপুল,আতাউল গনি মামুন, রব মাওলা আর সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন ফয়েজ কামাল, নজরুল ইসলাম, বাহার উদ্দিন, শাহনাজ নজরুল, সামসুল ইসলাম, আশেক আলী ফেরদৌস, গোলাম মাওলা। সাধারণ প্রবাসী সহ সম্ভাব্য কাউন্সিলর ও কিছু নেতা কর্মীদের কথা বলে জানা গেছে যদি নির্বাচন হয় তাহলে বিপদে আপদে প্রবাসীদের পাশে থাকবে এমন নেতাকেই তারা আশা করেন।