পারভেজ মোশাররফের দুর্নীতির বিচার হবে

ক্ষমতায় থাকাকালে পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতি করেছেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেশটির জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো’কে (এনএবি) নির্দেশ দিয়েছে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট। সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে এনএবি কতটুকু ক্ষমতা পাবে তা নবায়ন করতে গিয়ে কোর্ট ওই নির্দেশ দেয় শুক্রবার।

এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালে পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তা তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইনামুর রশিদ। সেই মামলার বিষয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ। এ বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ ও বিচারপতি মিয়াঙ্গুল হাসান আওরঙ্গজেব।

আদালতের এই আদেশের ফলে ১৯৯৯ সালে প্রণীত ন্যাশনাল একাউন্টেবলিটি অর্ডিন্যান্স (এনএও)-তে যে অস্পষ্টতা ছিল তা দূর হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১৯ বছর আগের ওই অর্ডিন্যান্সের অধীনে কোনো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির তদন্ত করা যাবে কিনা সে বিষয়ে ছিল অস্পষ্টতা। ওদিকে প্রায় পাঁচ বছর আগে দাখিল করা অভিযোগে ইনামুর রশিদ যে আবেদন করেছিলেন তাতে পারভেজ মোশাররফের মনোনয়নপত্রে ঘোষিত সম্পদের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, এতে যে সম্পদ দেখানো হয়েছে তা তার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভুত। তার এ আবেদনের জবাবে এনএবি ২০১৩ সালের ২৫ শে এপ্রিল এক চিঠির মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ইনামুরকে জানিয়ে দেয় যে, তারা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কারণ, ন্যাশনাল একাউন্টেবলিটি অর্ডিন্যান্সের অধীনে সশস্ত্র বাহিনীর একজন জেনারেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে তাকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে। তবে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এনএও এবং তার প্রয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে ইসলামাবাদ হাই কোর্ট। এরপরই আদালতের ওই ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, আলোচনার প্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে ১৯৯ সালের অর্ডিন্যান্সের অধীনে বিচার কাজ করা যাবে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে। তার বিচার করা যাবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি দেয়া যাবে। প্রথমত, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক পদ ব্যবহারের জন্য তার বিরুদ্ধে এটা কর যাবে। দ্বিতীয়, তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।