পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে চায় আ’লীগ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি প্রশাসনিকভাবেই মোকাবেলা করতে চায় সরকার। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থেকে পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অগোচরে কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা প্রতিরোধে এগিয়ে আসবেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো আরো জানায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও রায়কে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে পরিচিতি দিতে চাননা আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতি নির্ধারকেরা। সেজন্য রায়ের পর দলীয়ভাবে অবস্থান না নিয়ে যে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রশাসন তথা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি প্রশাসনকে খুব সিরিয়াসলি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। এরপর দফায় দফায় বৈঠক করছেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সে অনুযায়ী সব ধরণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীমুখী সব ধরণের যানবাহনে তল্লাশী ও নজরদারি করা হচ্ছে। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি চলছে। তল্লাশি চলছে সরকারবিরোধী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাসা বাড়িতেও। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য রায় ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতায় সারা দেশে ইতোমধ্যেই চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রায়ের দিন এবং এরপরও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

সূত্রগুলো আরো জানায়, খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের প থেকে কোনোভাবেই উসকানিমূলক কিছু করা হবে না। ওই দিনের পুরো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করবে আওয়ামী লীগ। কোন মহল যাতে দাবি করতে না পারে যে, আওয়ামী লীগ উসকানি দিয়েছে। তাই মাঠে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মতাসীনেরা। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মামলা যেহেতু আইন-আদালতের বিষয়, তাই রাজনৈতিক প্রস্তুতি নেয়ার কোন আগ্রহ নেই আওয়ামী লীগের। তবে সজাগ-সতর্ক ও পুলিশকে সহযোগিতা করতে সার্বণিক প্রস্তুত থাকবে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়কে কেন্দ্র করে শুরুর দিকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সিনিয়র নেতারা

সে অনুযায়ী নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে গরম গরম বক্তৃতাও দেন তারা। তবে পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে সরকার। কারণ, বিএনপি মাঠে নামলে সেটি যদি দলীয়ভাবে মোকাবেলা করা হয় তাহলে খালেদা জিয়ার মামলা এবং রায়ও রাজনৈতিক হিসেবে পরিচিতি পাবে। এতে রায় ঘিরে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপি মাঠ গরম করতে পারে। সেজন্য বিএনপিকে সম্পূর্ণ আইনী ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আ’লীগের দুই জন নেতা বলেন, ‘রায়ের পর বিএনপি মাঠে নামলে আমরাও যদি পাল্টা হিসেবে মাঠে নামি অথবা তাদেরকে প্রতিরোধ করি তবে তা রাজনৈতিক পর্যায়ে চলে যাবে। যার ফল বিএনপির ঘরে যাবে। কিন্তু আমরা তা হতে দেবোনা। রায় দেবে আদালত। আর রায়ের বিরুদ্ধে কিছু করলে দেখবে প্রশাসন। সেখানে আমাদের না জড়ানোই ভাল। সেজন্য জ্বালাময়ী বক্তৃতা বা নির্দেশনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের শুধুমাত্র সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। এটাই আমাদের কৌশল।’

এক নেতা বলেন, ‘বিএনপিকে রাজনীতি নয়, প্রশাসন দিয়েই ঠান্ডা করা সহজ। আর সরকারও সেটিতে মজা পাচ্ছে। সেজন্য শুধু শুধু আমরা মাঠে নেমে পাল্টাপাল্টি রাজনীতি গরম করার দরকার কি। পুলিশের ভয়ে তারা ইতিমধ্যেই গর্তে ঢুকে গেছে। বের হওয়ার চেষ্টা করলে আবার ডান্ডা মারা শুরু হবে। এভাবেই নির্বাচন পর্যন্ত চলবে।’

সূত্র জানায়, আগামীকাল যার যার পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগ নেতারা সজাগ থাকার নির্দেশনা পেয়েছেন। কার পাড়ায় কারা নতুন এসেছেন, কেন এসেছেন, এসব খোঁজ-খবর রাখতে বলা হয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে মিছিল বের করতে চাইলে তাও ঠেকাতে এবং পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার দিন আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে না বলে জানিয়ে দলটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, রায় ঘোষণার দিন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী রাস্তায় নামবে না।
রায়ের দিন আওয়ামী লীগ রাজপথে অবস্থান নেবেনা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা গায়ে পড়ে কেন দেশে অশান্তি ডেকে আনবো?