‘নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা না হলে মিয়ানমারে যাবেনা রোহিঙ্গারা’

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। গতকালও (সোমবার) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সদস্যরা বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশ করেছে।

সমাবেশে অংশ নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী মুহাম্মাদ মুসলমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকত্ব দিতে হবে। অন্যথায় মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া সম্ভব নয়। সেখানে বসবাসকারী ২০ হাজার রোহিঙ্গার স্বাক্ষর সম্বলিত এ সংক্রান্ত একটি আবেদপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

মুহাম্মাদ মুসলমান আরও বলেছেন, তাদের স্বজনদের অনেককেই হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা। এখন যারা ফেরত যাবে তাদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হতে পারে।

জীবন বাঁচাতে যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছেন সেখানে কোন আশায় আবার ফেরত যাবেন তারা-এ প্রশ্ন করেন তিনি।
এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলেছে, মিয়ানমারে পাঠানোর আগে রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে সেখানকার প্রকৃত অবস্থা জানাতে হবে। এরপর তারা স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে তাদেরকে সেখানে পাঠানো যেতে পারে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর তারা যাতে আবারও হত্যা-নির্যাতনের শিকার না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির পরিচালক ডেভিড বিজলি বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর মতো পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয় নি।

এরইমধ্যে অভিযোগ উঠেছে, মিয়ানমার কৌশলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে বসবাসের অনুপযোগী ক্যাম্পগুলোতে বন্দি করে ফেলতে চাইছে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু বাংলাদেশ জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হওয়ায় এখনই প্রত্যাবর্তন শুরু করা যাচ্ছে না৷