মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ ও বিকলও হয়ে যেতে পারে

জেরুজালেম ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলমান- এই তিন ধর্মের লোকের কাছে প্রবিত্র স্থান (sacred land ) হলেও ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইহা অত্যন্ত বেশী পবিত্র স্থান। কারণ, মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান হলো -মক্কা ও মদিনা এবং তৃতীয় প্রবিত্র স্থান জেরুসালেম। ইতিহাস ও ধর্মীয় তথ্যমতে জেরুজালেম খোদা তা আলা কর্তৃক হজরত ইব্রাহিম আ: ও তাঁর বংশদরদের প্রদত্ত বা দানকৃত ভূমি (Promised land) ,যা ৩,ooo বৎসরের ও বেশী সময় ধরে ইসরাইলের রাজধানী। যা ছিল কিং ডেভিড (হজরত দাউদ আ:) এর রাজত্বের রাজধানী ও রিসালতের জায়গা। হজরত ঈসা আ; এর জন্ম ও, চারণভূমি ও রিসালতের জায়গা; হজরত মুসা আ: এর উপর নাজিল হওয়া আসমানী কিতাব তাওরাত এর একান্ত অনুসারীদের একান্ত পবিত্র স্থান। এছাড়া আরো অনেক নবী ও পয়গম্বরদের জন্ম ও নবুয়তের স্থান।

আব্রাহামিক ধর্ম – ইহুদী ,খৃস্টান ও ইসলাম – এই তিন ধর্মের বিশ্বাসীদের কিছু সাধাৰণ বিশ্বাসের ও ইবাদতের প্রবিত্র জায়গা রয়েছে(some common ground of faiths and worship) ,তার মধ্যে অন্যতম হলো টেম্পুল মাউন্ট। তবে, এ পবিত্রভূমিতে মুসলমানদের দাবী গত 1300 বৎসর ধরে হলেও , প্রকৃতপক্ষে উহার পবিত্রতা ও মালিকানা ছিল ইহুদীদের কয়েক হাজার বৎসর আগে থেকে এবং খ্রিস্টানের হজরত ঈসা আ: (যীশু খ্রিস্ট ) এর সময় থেকেই। জায়গাটি যেহেতু তিন ধর্মের (চার পক্ষের ) পবিত্র স্থান ও ইবাদতের জায়গা ,তাই উহাকে নিয়ে রক্তপাত কোন মতেই কাম্য হতে পারে না। এক খোদার ইবাদতকারী বান্দা ও বিশ্বাসী হয়ে জেরুজালেমে একে অপরের সহিত রক্তপাত খোদা নিশ্চয়ই সহ্য করবেন না।

দুঃখ জনক হলেও সত্য যে ,আজকাল ধর্মকে অনেকেই ভূ-রাজনৌতিক হীনস্বার্থে ব্যবহার করছেন। তাই, মাথা গরমের পথ পরিহার করে মুসলিম বিশ্বকে সঠিক বাস্তবতা, বিচার -বিশ্লেষণ ও বিবিকের তাড়নার মধ্য দিয়েই অগ্রসর হতে হবে। বর্তমানে মুসলিম রোহিঙ্গা সংকট যে ফিলিস্তিন সংকটের চেয়েও মারাত্মক ,সে কথাটি মুসলিম বিশ্বকে মনে রাখতে হবে। এক বড় সংকট ছেড়ে , আরেক মামুলী সংকটে বেশী তৎপরতা দেখলে এক সময় মুসলিম বিশ্বের নাজুক নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ ও বিকলও হয়ে যেতে পারে।

লেখক আলি মুহাম্মদ আশিক