প্রকাশ্যে ঘুরছেন না.গঞ্জে সংঘর্ষের অন্যমত হোতা অস্ত্রধারী নিয়াজুল, পুলিশের দাবি নিখোজ!

প্রেসটাইম২৪: নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে অস্ত্র হাতে সাবেক যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলামের একটি ছবি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়, দাবি ওঠে নিয়াজুলের গ্রেফতারের। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পরও গ্রেফতার করা হয়নি সাবেক এই যুবলীগ নেতাকে। কারণ হিসেবে পুলিশ দেখিয়েছে, নিয়াজুলের কোনো হদিস জানে না তারা। অথচ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগেরই এক নেতার দাবি, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিয়াজুল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সংঘর্ষের পরের দিন বুধবার অস্ত্র খোয়া যাওয়ার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লোক পাঠিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান নিয়াজুল। সে সময় থেকে নিয়াজুল নারায়ণগঞ্জ শহরেই অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

‘নিয়াজুল একজন সন্ত্রাসী। আমরা জেনেছি সে ঘটনার পর থেকে খানপুর এলাকায় রয়েছে। ওখানে একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য যায়। তাকে চায়ের দোকানে দেখেছেন বেশ কয়েকজন। তাদের মাধ্যমেই আমরা নিয়াজুলের শহরে অবস্থান করার বিষয়টা জানতে পারি’, বলেন জাহাঙ্গীর।

‘নিয়াজুল ১৯৮৮ সালের আগস্টে চাষাঢ়ায় জোড়া খুনের অন্যতম অভিযুক্ত আসামি ছিল। ওই মামলায় জেলও খেটেছিল সে। এ ছাড়া সে হত্যা ও অস্ত্রসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি ছিল। যুবলীগের সাথে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ওই সব মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে’, যোগ করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও নিয়াজুল গ্রেফতার না হওয়ার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনায় যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং মেয়রসহ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছি।’

জেলা নাগরিক কমিটির সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মনে হচ্ছে পুলিশ তাদের ভূমিকা সঠিকভাবে পালন করছেন না। আমাদের কাছে আশ্চর্য বলে মনে হয়, যে ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন, তাকে কীভাবে পুলিশ খুঁজে পায় না। আমরা শুনেছি সে শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।’

‘যদি এ সকল অপরাধী গ্রেফতারে বিলম্ব হয়, তবে অপরাধ প্রশ্রয় পাবে, অন্য অপরাধীরা উসকানি পাবে। প্রশাসনকে এ বিষয়টা বুঝতে হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। আর নিয়াজুল সে দিন যে অস্ত্রটি নিয়ে এসেছিল, সেটা বৈধ কি না, কে জানে। কারণ সন্ত্রাসীরা একটা লাইসেন্স নিয়ে অনেকগুলো ব্যবহার করে থাকে।’

এ বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মঈনুল হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেনি। তবে এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়াজুলকে গ্রেফতার করতে। তবে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।’

এরই মধ্যে নিয়াজুলকে নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বুধবার শহরের রাইফেলস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নিয়াজুল ইসলাম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও যুবলীগের সিনিয়র ত্যাগী নেতা। তাকে তিনবার মারধর করলে সে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র রেব করে। ’

শামীমের দাবি, ‘বিএনপির সন্ত্রাসী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। নিয়াজুল একজন ব্যবসায়ী এবং তার অস্ত্রটি বৈধ।’

তবে শামীম ওসমানের বক্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির। তিনি বলেন, ‘শামীম ওসমান মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত। যখনই কোনো ভুল করেন, তখনই মিথ্যা বলে পার পেতে চেষ্টা করেন। এটা অনেকদিন থেকেই দেখে আসছে মানুষ। নিয়াজুল যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবেই সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। হামলার দিন মেয়র আইভীকে হত্যার জন্যই হাতে অস্ত্র নিয়ে গুলি করে নিয়াজুল। নিয়াজুলই প্রথমে মেয়রকে বাধা দিয়ে চলে যেতে বলে এবং এর পরই মেয়রের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।’

কাদির আরও বলেন, ‘নিয়াজুল মেয়রকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্র হাতে তেড়ে আসে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাকে প্রতিহত করে। নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসীদের দিন শেষ হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জে আর সন্ত্রাসীরা সুবিধা করতে পারবে না। যে ভালো কাজ করবে, তার উন্নতি হবে। যে মন্দ করবে তার পতন হবে।’

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি ও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক লোক।