ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে জাবি ছাত্র বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হতে সহযোগিতা করায় এক ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সাহেদ ইসলাম ওরফে আল-আমিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪২তম আবর্তনের এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

সাহেদ ইসলাম ওরফে আল আমিনের বিরুদ্ধে মোফসেনা ত্বাকিয়া নামের এক ছাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন বোর্ডের মিটিংয়ের পর এক জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

রেজিস্ট্রার জানান, জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আল-আমিনের নামে মামলা করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের অধ্যাপক রাশেদা আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

আর ত্বাকিয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে আবু বকল সিদ্দিক বলেন, ‘আপাতত মেয়েটিকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, মোফসেনা ত্বাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী পরিচয়ে ওই বিভাগে এক বছর ধরে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছিলেন। পরে বিভাগীয় সভাপতি সন্দেহের বশে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসে ওই শিক্ষার্থী জাবিতে ভর্তি হননি।

এ বিষয়ে ত্বাকিয়ার কাছে জানতে চাইলে জানান, ২০১৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। তবে মেধা তালিকায় স্থান না পেলেও অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন তিনি। তা ছাড়া তাঁর নানা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় আল-আমিন হোসেন শাহেদ চার লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতি-নাতনি ভর্তি হতে পারে) ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এই প্রলোভনে বিশ্বাস করে ত্বাকিয়া ২০ হাজার টাকা দেন আল-আমিনকে। পরে আল-আমিন একটি ফর্ম দেন ত্বাকিয়াকে। সেটি পূরণ করেন তিনি। এরপর থেকে ত্বাকিয়া নিজেকে জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন।

এ ছাড়া ত্বাকিয়া এক লিখিত অভিযোগে বলেন, ‘এভাবে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার পর আমার সঙ্গে আল-আমিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও থাকায় সে আমাকে ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে কারো কাছে অভিযোগ না করার জন্য বলে। তা ছাড়া সে ওই সব ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’

রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে উপাচার্য কোটায় সর্বমোট ২০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়। ওই তালিকার মধ্যে মোফসেনা ত্বাকিয়ার নাম পাওয়া যায়নি।

এদিকে আল-আমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কোনো দোষ করিনি। ওই মেয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।’

আল-আমিন প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করলেও অর্থ লেনদেন ও ছবি-ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল বলেন, ‘মেয়েটি আমাদের বিভাগে ক্লাস করেছে। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি সে আমাদের বিভাগের ছাত্রী না। তার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তার কোনো কাগজপত্র প্রশাসনের কাছে নেই। তাই আমরা প্রক্টরের কাছে তাকে হস্তান্তর করেছি।’

প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ থেকে অভিযোগটি এসেছিল। তারপর আমরা অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় ভর্তি চেষ্টার অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।’