সরকার গ্রামকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এ মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

বুধবার জাতীয় সংসদে বহুল আলোচিত প্যারাডাইস পেপারসে প্রকাশিত ‘জিয়া পরিবার’র অর্থপাচারের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বলেন, প্যারাডাইস পেপারসে নতুন করে প্রকাশিত নামের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের নাম। প্রকাশিত এ নথির তালিকায় শীর্ষেই আছে খালেদাপুত্রদের নাম। এ ছাড়া নতুন প্রকাশিত ২৫ হাজার নথিতে বের হয়ে আসছে আরও রাঘববোয়ালদের নাম ও তাদের অর্থপাচারের নানা তথ্য।

প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংসদে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে তীর্যক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য তিনি রেখেছেন, তা শুধু অনভিপ্রেত বা দুঃখজনকই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় দানা বাঁধবে। প্রধানমন্ত্রীর কুৎসামূলক অপপ্রচারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরও প্রসারিত করবে এবং গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে দানবীয় শক্তি প্রয়োগে বাধা দেয়ার শামিল বলে গণ্য হবে।

জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনা

মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এখন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। খালেদা-ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিষ্কে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উস্কানি সত্ত্বেও খালেদা জিয়া ধৈর্য্য ও সংযমে সঙ্গে সবকিছু মোকাবেলা করছেন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতি ক্ষমতালিপ্সা সরকারের উর্দ্ধতনদের বিবেককে অবশ করে দিয়েছে। খালেদার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যার ধারাবর্ষণ করে ক্ষমতাসীনরা দেশে এক বিধ্বংসী বিপজ্জনক অভিযানে নেমেছে। অনাচারমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার জন্য জবাবদিহিতার সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে দিয়েছে এই সরকার। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে মিথ্যা ও অপপ্রচারকে কায়েমী ও দৃঢ়মূল করতে ভ্রান্ত-নীতি প্রয়োগ করছেন ক্ষমতাসীনরা। মিথ্যাকে কখনোই সত্য বলে চালানো যাবে না। আওয়ামী লীগ কখনোই রাজনীতির ভদ্রতার নিয়ম-কানুন মানেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত করতে বিএনপি দৃঢ় বদ্ধপরিকর। কিন্তু দেশের মানুষের আগামী দিনের স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে প্রধানমন্ত্রী দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন।