‘আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য চরম আপত্তিকর’

জলবদ্ধতার ১২ কারন

অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধামালা ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বক্তব্যকে দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও চরম আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতারা।

আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে সমিতির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। সমিতির সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিচারকদের জন্য খসড়া বিধিমালা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাননীয় আইনমন্ত্রী এই ব্যাপারে আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানে যে ক্ষমতা সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন।’

জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রতি যে অবজ্ঞা প্রদর্শিত হয়েছে। অবিলম্বে মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ করে আপিল বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে প্রধান বিচারপতি নিজস্ব কোনো বক্তব্য দেননি। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য সারা দেশের আইনজীবীদের বক্তব্য। আইনের শাসন রক্ষায় তাঁর এই বক্তব্য। কাজেই প্রধান বিচারপতি একা নয়, সারা দেশের বার সমিতি এবং আইনজীবীরা তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। যারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তাদের মতে যদি সর্বোচ্চ আদালতের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকে, তাহলেই গণতন্ত্র থাকবে। আইনের শাসন থাকবে।’

জয়নুল আবেদীন আরো বলেন, ‘আইনমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আইনমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছি। তিনি নিজেও একজন আইনজীবী। তাঁর উচিত এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকা।’

ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি বলব, ৭২-এর সংবিধানে প্রথম আঘাত আজকের সরকারই করেছে। তাঁরাই কিন্তু চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধান পরিবর্তন করেছেন অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল বলছে আমরা ৭২-এর সংবিধানের ফিরে যেতে পারলাম না। এটা কি তিনি ইচ্ছা করে বলছেন, না অনিচ্ছাকৃতভাবে বলছেন? আমার মনে হয় উনি সব জেনেশুনে তিনি এভাবে কথা বলছেন।’

মাহবুব উদ্দিন খোকন আরো বলেন, ‘আপিল আদালতের নির্দেশনায় ৭২-এর সংবিধানের কোথায় বরখেলাপ হলো? ৭২-এর সংবিধানে কী বলা আছে? সেখানে ১১৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরি )ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এই সংবিধানের কোথাও বলা নেই সংসদের হাতে থাকবে এটা। তাহলে কেন বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে?’