নেশায় আসক্ত তরুণ সমাজ:দায় কার সমাজ না রাষ্ট্রের ?

বানের পানির মত ভেসে আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল,গাজা সহ নেশা জাতীয় নানান দ্রব্য। আর এসব লুফে নেয়ার জন্য চাতক পাখির মত অপেক্ষায় থাকে লক্ষ কোটি তরুণ। বিবিসি বাংলার তথ্য মতে নেশাগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা বাংলােেদশে ৭০,০০০০০ (সত্তর লক্ষ্য)এর মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ।অপরদিকে জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকা এই নেশাগ্রস্থ মানুষের মধ্যে কিশোরদের সংখ্যাধিক্য এই জাতির ধ্বংসের পূর্বাবাসই নয় বরং দাওয়াত নামা বটে!

সরেজমিনে ২০০ জন ছাত্রের সাথে একান্ত আলাপে দেখাযায় তাদের মধ্যে শতাধিক ছাত্র কোন না কোন ভাবে নেশায় আশক্ত! এটি রাজধানী ঢাকার সনামধন্য স্কুল কলেজ গুলোর শিক্ষার্থীদের গল্প। কেন হচ্ছে এসব? নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়া পরিস্থিতির জন্য দায়ী আসলে কে বা কারা? দায়টাকি রাষ্ট্র নিবে নাকি দোষটা সমাজের।

রাষ্ট্রতো এখন প্রতিষেধক উৎপাদনের চেয়ে রোগী দমনে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। হাস্যকর এমন সব অভিব্যাক্তি আমাদের রাষ্ট্রের কর্তা ব্যক্তিদের কথা বার্তায় ফুটে ওঠে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীতো জঙ্গীদের মত নেশাগ্রস্থ সন্তানকে ধরিয়ে দেওয়ার তালিম দিচ্ছে জাতিকে খুব ঘটা করেই।এসব নেশা জাতীয় দ্রব্য আমদানী করে জনগনের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিতে যারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাদেরকে ধরার ঘোষণা দেয়ার সৎ সাহস মন্ত্রীর না থাকায় গুটি কয়েক ক্রস ফায়ার নাটকেই সীমাবদ্ধ থাকছে মাদক দমন কার্যক্রম।

অপরদিকে গরু চোরা কারবারিদের লাশ সীমান্তে হরহামেশা ঝুলে থাকতে দেখা গেলেও আজ অবধি কোন মাদক ব্যবসায়ীকে বিএসএফের হাতে নিহত হতে দেখলামনা। বরং তারা প্রটোকল দিয়ে এদেশে মাদক পাচার করছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। আর মাদকের এসব চালান কিভাবে রাজধানী সহ সারা দেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে তার কোন কুল কিনারা করতে না পারলেও মাদক ব্যবসার সাথে নিজেদের জড়িয়ে রাতারাতি ভাগ্য বদল করার কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথেই করে যাচ্ছেন আমাদের প্রশাসনের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী।

মাদকের এই মহামারি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের এমন ব্যর্থতা ও রাষ্ট্রের উদাসীনতার সাথে সাথে সমাজের কর্তা ব্যক্তিরাও নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।আমাদের সামাজিক কাঠামোর ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও যতটুকু দায় দায়িত্ব পালন করা সম্ভব তা থেকেও নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তথা কথিত সমাজ সংস্কারকরা।

উৎপাদন বন্ধ না করে নিঃশেষের পদক্ষেপ গ্রহন যতটা বোকামী। মাদক তথা নেশা জাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা রোধ না করে তা নির্মূলের নসিহত ততটাই মূর্খতা বলে মত দিয়েছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা।

রাষ্ট্রের ব্যর্থতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ যেমন নেই তেমনিভাবে কোন কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতেও আমরা সমানভাবে ব্যর্থ।আকাশ সংস্কৃতির নির্মম আক্রমনের শিকার হয়ে আমাদের তরুন ও যুব সমাজের এমন বিধ্বংসী অবস্থা রুখতে আমাদের একটি কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।এক্ষেত্রে অবিভাবকদের ভুমিকা সবচেয়ে বেশী বলে মনে করি।নিজেদের সন্তানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে ধরিয়ে দিতে নয় বরং সন্তানের মনমাসসিকতার অবস্থা উপলদ্ধি ও তার সৎ গুনাবলী বিকাশে ও শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন তৈরীতে অবিভাবকদের যত্নবান হতে হবে।

অপসংস্কৃতির বেড়াজালে সন্তান যাতে জড়িয়ে না পড়ে সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। সামাজিক ভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে সেই আন্দোলনে তরুন ও যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা প্রদান এক্ষেত্রে অদ্বিতীয় এবং একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে মনে করি। কেবলমাত্র নৈতিক শিক্ষাই পারে ধংশপ্রায় এ জাতীকে রক্ষা করতে। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের প্রচলিত শিক্ষার ব্যর্থতা ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব সমান ভাবে উপলব্ধি করতে হবে। আলেম সমাজ ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যাক্তি বর্গকে এ আন্দলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। সমাজের সবাইকে মাদকের ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে ভুমিকা পালন করা জরুরী। কারো উপর এ দায় চাপিয়ে দিয়ে“নিজে বাচি” নীতি অবলম্বন করলে এই ধ্বংস্তুপ থেকে বাচার কোন উপায় থাকবেনা।

সমাজ ও রাষ্ট্র সমানভাবে উদ্দোগী হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে পারলে স্বল্প সময়ে এই মহামারি থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি।অন্যথায় কর্মহীন ও নিস্তেজ একঝাঁক নেশাগ্রস্থ শিক্ষিত যুবকের বোঝা বহন করা ব্যতিত আরকোন গত্যন্তর থাকবেনা।

লেখকঃ রেদওয়ানুল হক