তৃণমূলে জামায়াতের চিঠি

দলের সহকারি সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুকে নিয়ে সারা দেশে দৃষ্টি আকর্ষণী মর্মে একটি চিঠি পাঠিয়েছে জামায়াত। সেখানে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের পদত্যাগে আমরা মর্মাহত। সংগঠনের এক কঠিন সময় এটা আমাদের বাড়তি কষ্টের কারণ। দীর্ঘদিন তিনি আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে আইন অঙ্গনে সংগঠনের কঠিন সময়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অতীতের সব অবদানকে সম্মানের চোখে দেখি। ব্যারিস্টার রাজ্জাকের ব্যাপারে আমাদের সব কর্মীর প্রতি অনুরোধ, তার ব্যাপারে কেউ কোনো বিরূপ মন্তব্য করবেন না।

তার পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উনার পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত করলে আমরা তাকে আন্তরিক অনুরোধ করেছিলাম পদত্যাগ না করার জন্য। তিনি তাতে সম্মত হননি। তিনি গণমাধ্যমে তার এ পদত্যাগের ব্যাপারে অবহিত করবেন বলে আমাদের জানালে, আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম মিডিয়ায় না দেয়ার জন্য। দুঃখজনক হলেও সত্য তিনি আমাদের অনুরোধটিও রক্ষা করেননি।

এরপর শিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর ব্যাপারে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিগত কয়েক বছর থেকে তিনি সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রকাশ্যে ভিন্নমত প্রকাশ করে আসছিলেন। যা সংগঠনের জন্য খুবই বিব্রতকর। গোড়ার দিকেই ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা একাধিকবার তার সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন এবং তার সমস্ত কর্মকাণ্ড সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি হওয়ায় তাকে এসব পরিহার করার জন্য সর্তক করা হয়। এমনকি সে সময়ে তিনি একটি ভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করেন। এ বিষয়ে দলের আমীরের নেতৃত্ব্বে ও মহানগরীর নেতারা বসে এরকম কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাকে সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় তার প্রতি এ দরদ ও উদারতার কোনো মূল্যই তিনি দেননি।

সম্প্রতি তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সফর করে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ে লোকদের নিয়ে বিভিন্ন বৈঠক করেন যা সংগঠনের সিদ্ধান্তের বাইরে। তিনি নিজ দায়িত্বে একটি নতুন সংগঠন গড়ে তোলার বিষয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা করেন, যা সংগঠনের রীতিনীতি ও নিয়ম-শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। যদিও তার এ উদ্যোগে সংগঠনের কঠিন দিনের সহকর্মীরা তেমন সাড়া দেননি। তার পরও একজন লোক এ সংগঠন থেকে দূরে চলে যাক সংগঠন তা চায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীর উত্তর শাখা তার সঙ্গে কথা বলে। এ ক্ষেত্রে তার বক্তব্য সন্তোষজনক ছিল না। এমনকি তার এরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে মোটেই অনুতপ্ত মনে হয়নি। তাকে দেয়া সংশোধনের সুযোগ তিনি কাজে লাগাতে পারেননি এবং বর্তমানও অনুরূপ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে তার সদস্য পদ মুলতবি করে বাতিলের জন্য দলের আমীরের কাছে সুপারিশ করা হয়। এক্ষেত্রে আমীরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।