মার্কিন চাপ সত্ত্বেও তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিল ওপেক

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং এর বাইরের ১০টি তেল উৎপাদনকারী দেশ দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

ভিয়েনায় ওপেকের সদরদপ্তরে দু’দিনব্যাপী বৈঠক শেষে শুক্রবার রাতে ওপেক এবং রাশিয়াসহ ওপেক বহির্ভূত দেশগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১ জানুয়ারি থেকে তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার ওপেকের ১৭৫তম বৈঠক শেষ হয়

বৈঠক শেষে ইরাকের তেলমন্ত্রী সামের আব্বাস আল-গাদবান সাংবাদিকদের জানান, “আমরা মোটের ওপর ১২ লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদন করবো।” তিনি বলেন, ওপেকের ১৪ সদস্যদেশ দৈনিক আট লাখ ব্যারেল এবং ওপেক-বহির্ভূত ১০ দেশ দৈনিক চার লাখ ব্যারেল তেল কম উৎপাদন করবে। রাশিয়ার তেলমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক ওপেকের এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন।

তবে শুক্রবারের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে ইরান, ভেনিজুয়েলা ও লিবিয়াকে বাইরে রাখা হয়েছে। এই তিন দেশকে তাদের তেলের উৎপাদন কমাতে হবে না।

শুক্রবার রাতে ভিয়েনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ইরানের তেলমন্ত্রী জাঙ্গানে

এ সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জাঙ্গানে বলেছেন, দু’দিনব্যাপী আলোচনা অনেক ‘কঠিন ও জটিল’ হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইরানসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলোর পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়েছে।

ওপেকের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে জাঙ্গানে বলেছিলেন, তার দেশের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় তেল উৎপাদন কমানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে ইরানকে বাইরে রাখতে হবে।

ইরানের তেলমন্ত্রী শুক্রবার রাতে ভিয়েনায় সাংবাদিকদের আরো বলেন, ওপেক কখনো বাইরের কারো চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয় না। মার্কিন প্রশাসনকে এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।