ক্ষমতাসীন মহাজোটের পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিএনপি

বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর দিনভর নানা জল্পনা কল্পনার পর, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপিও। তবে প্রার্থী নির্ধারণে অনেকটাই এগিয়ে ক্ষমতাসীন জোট।

আওয়ামী লীগ, তাদের শরীকদের জন্য ৫৫-৬০টি আসন ছেড়েছে। এসব আসনে শরীক দল জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু); জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-আম্বিয়া); বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে তারা আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। এর বাইরে দলীয় প্রতীক নিয়েও অন্যরা নির্বাচন করতে পারবেন।

শিরীন আক্তার
এ প্রসঙ্গে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আক্তার বলেন, মহাজোটের যে আসন বণ্টন হয়েছে; এরচেয়ে আর ভালো করার সুযোগ ছিল না। তবে, আলাদাভাবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যে উন্নয়নের ধারা চলছে, তাকে এগিয়ে নিতে হবে।

এদিকে প্রার্থীতা চূড়ান্ত করতে নানা চড়াই উতরাই পাড়ি দিতে হচ্ছে বিএনপিকে। মামলাসহ নানা কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন, বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। নানা কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে অনেক প্রার্থীর। যদিও আপিলে বৈধতা পেয়েছেন বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী। বৃহস্পতিবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকের পর, সম্মিলিতভাবে চূড়ান্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার বিকেলে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের জন্য ৯৪টি আসন ছেড়ে দিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
২০৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। গণতান্ত্রিক অন্দোলন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির অংশ হিসেবে আমরা এই নির্বাচনে আছি।’

২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর নাম আগামীকাল (শনিবার) ঘোষণা করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারিত হয়। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনের ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই বাছাই শেষে, এখন চলছে আপিল নিষ্পত্তি। বৈধ প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেবে নির্বাচন কমিশন। এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা।