২০০১-এর নির্বাচনে আ. লীগের পরাজয়ে বিদেশিদের হাত ছিল: শেখ হাসিনা

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্য বিদেশিদের হাত ছিল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় গণভবনে প্রশাসনের সাবেক তিন শতাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উদ্দেশে দেয়া বক্তব্য তিনি এ দাবি করেন।

অবসরপ্রাপ্ত ৩০৭ সরকারি কর্মকর্তা শেখ হাসিনার সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রতি সমর্থন জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গণভবনে যান।

১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেও পাঁচ বছর পর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের কাছে হেরে যায়। প্রয়াত প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান নেতৃত্বাধীন তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৬২ আসন, অপরদিকে দুই শতাধিক আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট।

শুরু থেকে ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে আসা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই নির্বাচনের ফল আগেই ঠিক ছিল, যার দালিলিক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি ‘ডকুমেন্ট’ উদ্ধার করেন, যাতে কোন কোন আসন আওয়ামী লীগ দেওয়া হবে আর কোনটা দেওয়া হবে না তা আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল লাল, সবুজ কালিতে চিহ্নিত করে।

ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করে ভোটের আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বাংলাদেশ সফরে একটি ঘটনা এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছিলেন শেখ হাসিনা।

গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন শেখ হাসিনা

তার ভাষ্যমতে, জিমি কার্টারের সম্মানে তখনকার প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করেন। সেখানে তার এবং খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি আলোচনায় এলে তিনি ‘না’ বলে দেন। তিনি ওই অনুষ্ঠান থেকে চলে গেলেও বিএনপি নেতারা সেখানে ছিলেন। এরপর ‘গ্যাস বিক্রির মুচলেকা’ দিয়ে বিএনপির ক্ষমতা লাভের অভিযোগ করে আসা শেখ হাসিনা আজ বলেন, “যাই হোক আসতে পারলাম না। একটা ষড়যন্ত্রের শিকার। আপনারা জানেন, আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে হবে। সেই গ্যাস বিক্রি করবে আমেরিকা, কিনবে ভারত। আমি বললাম, আমার এতো গ্যাস নাই, আমি দিতে পারব না। স্বাভাবিকভাবে দুটো দেশই একটু বিগড়ে গেল। আর নির্বাচনটাও হল সেভাবেই। একেবারে হাতে তুলে আমাদের হারানো হল। আমরা ভোটে হারিনি। ভোট কিন্তু আমরা বেশি পেয়েছিলাম এত বাধার পরেও। কিন্তু গোনা সিটে আমরা হেরে গেলাম। সেখানে আমাদের কম দেওয়া হল।”

এ বিষয়ে দালিলিক প্রমাণ পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পরবর্তীতে আমি প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে একটা ডকুমেন্ট বের করেছিলাম। যেখানে তখনই মার্ক করা ছিল যে, কোন কোন সিট আমাদের দেওয়া হবে আর কোনটা দেওয়া হবে না। কোনোটা লাল কালি দেওয়া, কোনোটা হলুদ কালি দেওয়া, কোনোটা সবুজ দেওয়া, কোনোটা নীল দেওয়া। এইভাবে কিন্তু একেবারে তৈরি করা। সেটা থেকেই বোঝা যায়, নির্বাচনটা তখন কেমন হয়েছিল।”

ওই রকম ‘কারচুপির’ নয়, তারা ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচন করতে চান বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। আর কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই।’

তিনি বলেন, “জনগণের জন্য কাজ করেছি। জনগণ যদি খুশি হয়ে ভোট দেয় আছি ক্ষমতায় না দিলে নাই। কিন্তু দেশের ভাগ্যটা পরিবর্তন করা- এটাই আমাদের লক্ষ্য।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে দিনবদলের সনদ ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকে অন্তত এটা দাবি করতে পারি, দিনবদলের সনদ কার্যকর হয়ে প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবন বদলে গেছে। এখন মানুষ কিন্তু অনেক উন্নত-সুন্দর জীবন পাচ্ছে। কিন্তু আরো উন্নতি আমাদের করতে হবে।

২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি জানি না, কখনো কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে যে, জীবন্ত মানুষকে কেউ পুড়িয়ে হত্যা করে। এর থেকে জঘন্য কাজ আর পৃথিবীতে কিছু হয় না। এটাই নাকি তাদের আন্দোলন ছিল।”

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, বিএম মোজাম্মেল প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।