অস্তিত্ব সংকটে বড় দুই দল; অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ

এম.আর.এইচ গাওহার

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে “ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কিছুই করার থাকেনা” অর্থাৎ তখন মানুষ যেকোন কিছুই করতে পারে। আরো একটা কথা প্রচলিত আছে যে,একটা সময় পিছনে ফেরার কোন পথ খোলা থাকেনা। দু’টি প্রবাদই সমান ভাবে প্রযোজ্য বাংলাদেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বি.এন.পি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর জন্য। বর্তমান সময়ে নির্বাচনকে ঘিড়ে বিএনপির রাজনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে তার একটাই যেন উত্তর যে বিএনপির জন্য এখন সব জায়েজ।কারণ দলটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হলেও ণ্যুনতম গণতান্ত্রিক সুবিধা তারা ভোগ করতে পারছেনা।অন্যান্য দলগুলোর অবস্থা তাহলে কি হতে পারে তা ব্যাখ্যা বিশ্লেষনের প্রয়োজন আছে বলে মনেকরি না। কি করবে বিএনপি? দলের প্রদান হাস্যকর অভিযোগে কারান্তরীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে লড়ছে।অপর সর্বোচ্চ নেতা একের পর এক দন্ড মাথায় নিয়ে প্রবাসে নির্বাসিত। দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর সব মামলা ঝুলছে।বিএনপি নেতাদের এখন সাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা দুরে থাক কথা বলতে হচ্ছে মেপে মেপে।একদিকে সরকার তাদের আন্দোলন করার যোগ্যতা নেই বলে উস্কানি দিচ্ছে অপর দিকে গায়েবি মামলা দিয়ে সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।এমনকি তাদের আইনজীবীরাও মামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।

এমতাবস্থায় যদি বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে আর আওয়ামীলীগ আবারও একতরফা ভাবে ক্ষমতায় যায় তাহলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পরবে বিএনপি এমন আশঙ্কা সর্বমহলে।নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ার সতর্কতা ও আওয়ামী নেতাদের বিএনপি নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাওয়ার আগাম আগাম পূর্বাবাস প্রদানে এখন দিশেহারা বিএনপি।তৃণমূল থেকে হাই কমান্ড সবাই এই বিষয়ে একমত যে,এবার কিছু একটা করতে না পারলে বিএনপি টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য কাজ হবে। এমনকি খালেদা জিয়ার জেলখানায় মৃত্যু,তারেক রহমানের দেশে ফিরতে না পারা ও সিনিয়র অনেক নেতার জেল জরিমানা হয়ে জাওয়া এখন সময়ের ব্যপার মাত্র।

অপর দিকে সমান ভাবে অস্তিত্ব সঙ্কটে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ।কারণ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে গিয়ে আওয়ামীলীগ যে প্রতিহিংসা ও বিভক্তির রাজনীতি শুরু করেছে যেকোন উপায়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে না পারলে তার শেষ হবে নিজেদের ধংশের মাধ্যমে।বিশেষ করে গুম খুন ও হামলা মামলার যে রাজনীতি দেশে চলছে তা যদি বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামীলীগের উপর চালাতে শুরু করে তাহলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কতটা সম্ভব হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা কেউ। বিশেষ করে বর্তমানে সরকারী দলের জনপ্রিয়তার যে ধ্বস নেমেছে তা থেকে উত্তরনের কোন পথ খোলা আঝছে কি না তা কারোই জানা নেই।তার উপর কয়েকটি সামাজিক আন্দোলনের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে তরুন ও যুবক শ্রেণীর বেশীরভাগ অংশকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছে আওয়ামীলীগ।সাত কলেজের সিদ্দিকুর দিয়ে শুরু আর সড়ক আন্দোলনের ঝিগাতলা ট্রাজেডি দিয়ে তরুন ও কিশোরদের মাঝে সব শেষ হয়ে গেছে আওয়ামীলীগের।আর কোটা সংস্কারের দাবী নিয়ে গড়ে ওঠা সাধারণ ছাত্রদের প্লাটফর্ম আওয়ামীলীগের দুশ্চিন্তার আরেক নাম। অন্তত আগামী দুই দশকের দশকের জন্য যুব ও কিশোর শ্রেণী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে আওয়ামীলীগ এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। পুলিশ সহ সিভিল প্রশাসনকে এমনকি আদালতকে সরকার যেভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে তার কুফল তারা ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে।দুঃশাসনের মাত্রা ছাপিয়ে গেছে তাদের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডকে।উন্নয়নের ঢোল সমান তালে বাজিয়েও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছেনা বরং বর্তমান ক্ষমতাসীনদেরকে গলার কাটা মনে করছে দেশের অধিকাংশ মানুষ।তার সাথে যোগ দিয়েছে শুশিল সমাজ ও সাংবাদিক সমাজের একটি বড় অংশ। তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ইঙ্গিত দিচ্ছে পরিবর্তনের। ক্ষমতা থেকে হোচট খেলে আওয়ামীলীগের অবস্থা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির মত হয় নাকি তার চেয়েও ভয়াবহ কিছু হতে যাচ্ছে তা সময়ই বলে দিবে। দলের শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১লাখ মানূষ হত্যা করবে বলে ভীতি ছড়াচ্ছে সমান তালে।এমতাবস্থায় কি করবে আওয়ামীলীগ তা তারা নিজেরাও জানে কি না সন্দেহ। নেশাখোর ডাকাত ও জঙ্গীদের যেমন এপথে পা বাড়ানোর পর পিছনে ফেরার আর কোন রাস্তা থাকেনা ”সৈরতন্ত্র” এমনই একটি অভিশাপের নাম।যে অভিশাপে নিমজ্জিত আওয়ামীলীগ এখন ডু অর ডাই পজিশন নিয়ে আগাচ্ছে। অপরদিকে হিং¯্র আওয়ামীলীগের মোকাবেলায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বি এনপিও খুজছে মুক্তির পথ।

অস্তিত্ব টিকানোর রেসে থাকা দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নিজেদের স্বার্থে নেয়া যেকোন ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের বলি যেন বাংলাদেশকে না হতে হয় সে জন্য একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানের পথ খুজে বেড় করা এদেশের মেধাবী সন্তানদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করি। তাই এই সম্ভাব্য ধ্বংসের পথ থেকে রাজনীতিবিদদের ফিরাতে সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী ও দেশপ্রেমিক প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরী হয়ে পরেছে। আর এতে যদি আমরা ব্যর্থ হই তাহলে বাংলাদেশের অনিশ্চিত গন্তব্য কোথায় গিয়ে শেষ হয় তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে(!)

লেখক: সাংবাদিক