খাসোগি হত্যার অডিও শুনতে চেয়েছে সিআইএ

সৌদি ভিন্নমতালম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকান্ড তদন্তে মার্কিন বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র প্রধান গিনা হাসপেল এখন তুরস্কে। খাসোগির হত্যাকান্ডের সময়কার কিছু অডিও প্রমাণ রয়েছে বলে এতদিন তুরস্কের তদন্তকারীরা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন। সেই অডিও শুনতে চেয়েছেন হাসপেল। তার মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪ সূত্রের বরাতে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, এক সূত্র জানিয়েছে, হাসপেলের এই সফর সংক্ষিপ্ত। খাসোগির অন্তর্ধানের ৩ সপ্তাহ পর তিনি সোমবার তুরস্কে যান। তার ক’ দিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রতি তথ্যপ্রমাণ শেয়ারের আহ্বান জানান।
পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, অডিও রেকর্ডিং-এর বীভৎস বর্ণনা তুর্কি সংবাদমাধ্যমের পাতায় ছয়লাব হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া পশ্চিমা বড় বড় সংবাদমাধ্যমও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রের বরাতে এই রেকর্ডিং-এর অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। কিন্তু পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা মিত্র কোনো সরকারের সংস্থাকে সোমবার নাগাদ এই ধরণের প্রমাণ দেখানো হয়নি।

এছাড়া সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই পুরো ঘটনায় কী ভূমিকা পালন করেছেন, তার তেমন কোনো অকাট্য তথ্যপ্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা মিত্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে নেই।
সৌদি আরব ও ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করা ট্রাম্প গত সপ্তাহে তুরস্ককে বলেছেন, এই হত্যাকান্ডের কোনো অডিও বা ভিডিও প্রমাণ থাকলে, তা যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। তবে কিছু তথ্যপ্রমাণ সরাসরি শেয়ার করা না হলেও, মৌখিকভাবে সেগুলোর বিষয়বস্তু বর্ণনা করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার নিজের ভাষণে এই হত্যাকা- নিয়ে সৌদি অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন। সৌদি আরব বলছে, বিপথে চালিত কিছু এজেন্ট এই হত্যাকা- ঘটিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এমন তত্ব জোড় গলায় প্রত্যাখ্যান করেন। তবে তিনি এই ইস্যুতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে কোনোভাবে জড়াননি। এছাড়া তিনি নিজের বক্তব্যে ওই আলোচিত অডিও রেকর্ডিং সম্পর্কে কোনো কথাই বলেননি।