৩ দফা দাবিতে ফের বিক্ষোভের ডাক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারিসহ তিন দফা দাবিতে ফের বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন জানিয়েছেন,  দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামিকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

তাদের তিন দফা দাবি হলো- মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সকল মামলা প্রত্যাহার করা; আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পাঁচ দফার আলোকে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণার দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও কোটা সংস্কারের কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ছাত্র সমাজ হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় ছাত্রসমাজ তাদের দাবি আদায় করতে রাজপথে নামতে  বাধ্য হবে।

এদিকে একই দাবিতে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর ফেসবুক লাইভে নিজেদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং পাশাপাশি ছাত্রসমাজের দাবি মেনে নেয়া জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আমরা একদিকে যেখানে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের আর কোটায় বিশেষ নিয়োগ বাতিলের জন্য আন্দোলন করছি। অথচ কোটা ব্যবস্থা বহাল অবস্থায় সম্প্রতি ৪০তম বিসিএসের জন্য এবং সরকারি মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকে  চাকুরিতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া। এটা প্রমাণ করে সরকার ছাত্রসমাজের আন্দোলনকে ভ্রুক্ষেপ করছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।”

নুরুল হক নূর

নুরুল হক বলেন, “এটা ছাত্রসমাজের সাথে একটা তামাশা। তাই তাদের দাবি কোটার যৌক্তিক সংস্কারের আগ পর্যন্ত এই নিয়োগ যেন স্থগিত রাখা হয়।”

আান্দোলনকারীদের দমন-পীড়ন করা হচ্ছে দাবি করে নূর বলেন, “দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের আগে আমাদের দমন করা যাবে না। আমাদের দাবি মেনে নিন আমরা রাস্তা থেকে সরে যাব। আমরা আগেও বলেছি এখনো বলছি সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।”