উই ওয়ান্ট চেঞ্জ, উই ওয়ান্ট জাস্টিস: আব্দুর রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেছেন, উই ওয়ান্ট চেঞ্জ। উই ওয়ান্ট জাস্টিস। জনগন পরিবর্তন চায়, তারা ন্যায় বিচার চায়। ফ্যাসিবাদী শক্তি ও স্বৈরাচারের পতন চায়। দেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচন আর হবে না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের কোন রাগ-ক্ষোভ নেই। আপনি প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করুন, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকার আনুন। তারপর আমরা আপনার সাথে একসাথে খাওয়া দাওয়া করবো।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ স্মরকগ্রন্থ এবং ‘আমার রাজনীতির ৬০ বছর: জোয়ার-ভাটার কথন’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বিশেষ অতিথির ব্ক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন আহমদ। জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, পানি বিশেষজ্ঞ আতিকুর রহমান ও ড. এস আই খান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আব্দুল কাদের ভুইয়া, সাংবাদিক মোস্তাফা কামাল মজুমদার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিংকন ও অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, লেবারপার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শামীমুর রহমান শামীম।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এমাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে বিষাক্ত রাজনীতি চলছে। শিক্ষক-আইনজীবী থেকে সব পেশার মানুষ আজ বিভক্ত। এ রকম বিভক্ত সমাজ নিয়ে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। এজন্য দেশের রাজনৈতিক চর্চার পরিবর্তন দরকার।

আ স ম আব্দুর রব বলেন, আওয়ামীলীগ সংবিধানের দোহায় দিচ্ছে। কিন্তু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আগে কি সংবিধানে ছিলো? তারাই ১৭৩ দিন হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও মানুষ হত্যা করে সংবিধানে এ ব্যবস্থা এনেছে। এখন কেন সংবিধানের কথা বলছেন? ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এমনও অনেকে এমপি হয়েছেন যারা নমিনেশন পেপারও জমা দেয়নি। তাদের নাম এখন বলবো না। কিন্তু আমরা জানি তারা কারা। এসব কি সংবিধানে ছিল? বাকশাল কি সংবিধানে ছিল? এখন মিছিল-সমাবেশ করতে অনুমতি নিতে হয়। এসব কি সংবিধানে আছে?
জেএসডি সভাপতি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, আমাকে জেলে দেবেন? তাতে ভয় করিনা। ১০ বছর জেলে ছিলাম, অনেকবার মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েছি। এখনো যে বেঁচে আছি এই অনেক। এখন আমরা স্বাধীনতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। স্বৈরাচারের নিপাত চাই। এ সময় কাজী জাফর আহমদের মত মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল। তাকে আমরা আজ অনেক মিস করছি।

লে. জে. মাহবুবুর রহমান বলেন, কাজী জাফর আহমদ একটি সত্যিকার শোষণমুক্ত সমাজ চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরের ঘটনাগুলো তাকে হতাশ করে। এজন্য তিনি চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভুমিকা রাখেন। তিনি বুঝেছিলেন দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির শক্তি মজবুত করতে চীনের সাথে গভীর সম্পর্ক প্রয়োজন।