নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণের ওপর হামলা হয়। সভামঞ্চ ভাঙচুর ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। এতে এমপিসহ আহত হন শতাধিক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল
চৌমুহনী পাবলিক হল চত্বরে বেগমগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সভা চলাকালে মেয়র গ্রুপের একদল নেতাকর্মী মঞ্চ দখল করলে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জাফর উল্যাহ ও নোয়াখালী-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও কৃষিমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ তাদের নেমে যাওয়ার জন্য বলে।

এ সময় চৌমুহনী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চৌমুহনী পৌরমেয়র আক্তার হোসেন ফয়সল নেমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ। ঘটনার সময় উভয়গ্রুপের সংঘর্ষ বেঁধে গেলে ব্যাপক বোমাবাজি, ফাঁকা গুলিবর্ষণ, দা, হকিস্টিক ও রাম দা নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় উভয়গ্রুপের শতাধিক আহত হয়। সন্ত্রাসীরা চৌমুহনী পূর্ববাজার কাচারি বাড়ি মসজিদের সামনে থেকে বোমাবাজি করতে করতে সমাবেশ স্থল (স্টেজে) এসে ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় মামুনুর রশিদ কিরণ ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল, মামুন, মাহবুব, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাছুম, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নাজমুল শিহাব, থানা যুবলীগের সদস্য মামুন, পৌর ছাত্রলীগের সদস্য মো. শামীম, অন্তর ও সামছুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধের পর পুলিশ পাহারায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে রূপসা হলের পথে এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবার আক্রমণের শিকার হয়। এ সময় এমপি ও মেয়র গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়।

বিক্ষুব্ধ ক্যাডাররা চৌমুহনী পোস্ট অফিস, ইসলামিয়া হাসপাতাল, স্টেশন রোড, ডিবি রোড এবং চৌমুহনী ডালিয়া সুপার মার্কেটের বিভিন্ন দোকানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠি চার্জ ও ফাঁকা গুলি করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা, চৌমুহনী করিমপুর রোড, ফেনী রোড এলাকায় রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে। এ ব্যাপারে চৌমুহনী পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, সোনার ছেলেরা এ কাজ করে না।