Wednesday, September 26, 2018
২৮ হাজার পুজোর জন্য ২৮ কোটি দিলেন মমতা

২৮ হাজার পুজোর জন্য ২৮ কোটি দিলেন মমতা

রাজ্যের ২৮ হাজার বারোয়ারি পুজো কমিটির জন্য ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শারদীয়া উৎসব উপলক্ষে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কলকাতার তিন হাজার এবং জেলাগুলির ২৫ হাজার পুজো কমিটি প্রত্যেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবে। কলকাতায় এই টাকা দেবে পুরসভা ও দমকল। বিতরণ করবে কলকাতা পুলিশ। জেলার পুজোগুলিকে অনুদান দেবে রাজ্যের পর্যটন, ক্রেতা সুরক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী দফতর এবং রাজ্য পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্যে বিরোধীরা রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পাচ্ছে। তাদের মতে, দুর্গাপুজো এখন সামাজিক উৎসবে পরিণত হলেও আসলে তা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের অনুষ্ঠান। কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য সরকার এভাবে অর্থ বরাদ্দ করতে পারে কি না, প্রশ্ন তুলেছে তারা। পাশাপাশি, লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে পুজো কমিটিগুলিকে ঢালাও টাকা বরাদ্দ করার পিছনে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার প্রবণতা আছে বলেও বিরোধীদের অভিযোগ। এমনকী, সেতু মেরামতের টাকা না মেলা নিয়েও খোঁচা দিয়েছে তারা।

বিষয়টির মধ্যে যে ‘রাজনীতি’র গন্ধ রয়েছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথাতেই। তিনি বলেন, ‘‘বাইরের থেকে দুষ্টুমি করে অনেকে টাকার লোভ দেখাতে পারে। কিন্তু তার কাছে আত্মসমপর্ণ করবেন না। কারও কাছে ভিক্ষে চাওয়ার দরকার নেই।’’ এ ক্ষেত্রে পুজো উদ্যোক্তাদের উপরেই ‘ভরসা’ করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘কেউ যদি মনে করেন, টাকা দিয়ে পুজো কমিটি কিনে নেবেন, (পুজো উদ্যোক্তা) কিনে নিতে দেবেন না। আপনার আত্মমর্যাদা, সুনাম সব থেকে বড়।’’

তবে এই অর্থের বরাদ্দ করতে তাঁর অল্প সময় লেগেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে মঞ্চের উপরেই পুলিশ প্রশাসন, রাজ্যের কয়েক জন মন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক করেন মমতা। আর তার পরেই ওই অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করেন তিনি। তবে নাম না করে বিজেপিকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘অনেকে বড় বড় কথা বলেন। তাঁরা কি একসঙ্গে মহরম, দুর্গাপুজো করতে পারবেন! পারবেন না। একটা উদ্ভট দলের আর্বিভাব হয়েছে। কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না।’’

সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘এ ভাবে টাকা ছড়িয়ে ভোট কিনতে মুখ্যমন্ত্রী পারবেন না। সরকার রাস্তাঘাট, পরিকাঠামো তৈরিতে কবেই বা মন দিয়েছে? সেতু সারাইয়ের টাকা মেলে না! অথচ ক্লাবগুলিকে কেনার চেষ্টা চলছে!’’ দিলীপবাবুর আরও মত, কোনও ধর্মীয় আয়োজনেই সরকারের টাকা দেওয়ার কথা নয়।

একই সুরে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘যে সরকারের অগ্রাধিকার সেতু সারানো নয়, বরং মেলায় এবং খেলায় খরচ করা, তারা তো এ সব করবেই! ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এ সব হয় না। সবটাই অনৈতিক ভাবে হচ্ছে।’’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, ‘‘বাঙালি আবেগের আড়ালে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে ইমাম ভাতা দেওয়া হল। এ বার নজর পুজোতে।’’

বিরোধীদের সমালোচনা নস্যাৎ করে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দুর্গোৎসবের বিশাল সামাজিক দিক রয়েছে। ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ এতে সামিল হন। সে দিক থেকেই বিষয়টি দেখা উচিত।’’ মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানিয়েছেন, এ বছর রেড রোডে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের কার্নিভাল হবে ২৩ অক্টোবর।