জীবননগরের কামার শিল্পীরা ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন

মারুফ মালেক: আগামী ২২ আগস্ট রোজ বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদ উল আযহা। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দা, বটি, ছুরি ও ধামার ব্যাপক চাহিদা বাড়ে।

তাই মহাব্যস্ততায় দিন কাটাচ্ছেন জীবননগরের কামার শিল্পীরা। প্রতিদিন নিরলসভাবে কামাররা দা, ছুরি ও বটি তৈরি এবং মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন। হাতে অতিরিক্ত কাজ থাকার কারণে এখন অনেকেই নতুন কাজ নিতে চাচ্ছেন না। ঈদ উল আযহার কোরবানিতে পশুর মাংস কাটার জন্য প্রয়োজন হয় ধারালো দা, বটি ছুরি ও ধামার। বছরের অন্য সময়ে কামারদের হাতে তেমন কাজ থাকে না তাই তারা বাড়তি আয় করার এই সুযোগ কাজে লাগাতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কামাররা এখন মহাব্যস্ত। জীবননগর বাজারে বিভিন্নস্থানে কামার দোকান রয়েছে। প্রতি রোববার ও বুধবার হাটের দিন ও শিয়ালমাড়ী পশু হাটে প্রতি বৃহস্পতিবার বেশ কিছু কামার লৌহদ্রব্য নিয়ে দোকান বসান।

জীবননগর প্রায় ১৫-২০ কামার রয়েছে। জীবননগর বাজারের মোল্লা নিউ মার্কেটের পাশে জগা কামারের ছেলে শ্রী সুতেস কামার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে। কোরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়। ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় ছুরি ও ধামায় সান দেয়ার জন্য ৩০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুনের ভিত্তি করে ১শ’ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি দা ২শ’ টাকা, ছোট ছুরি ৬০ টাকা, বটি ১৫০-১৬০ টাকা, ধামা ২৫০-৩০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। তিনি আরো জানান, অনেক ক্রেতা সঠিক মূল্য দেন না। বর্তমানে কয়লার মূল্য বেশি। ছুরিতে সান দেয়ার আগে আগুনে পড়ানোর জন্য কয়লা অতি প্রয়োজনীয়। আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহার কারণে এবার জীবননগর বাজারে মৌসুমী কামাররা এসেছে। এলাকার বন্ধ কোন দোকান ঘর এক মাসের জন্য ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দা, ছুরি সান দেয়ার কাজে নেমে পড়েছে। প্রয়োজনীয় পুজির অভাব ও সরকারিভাবে সহযোগিতা না পাওয়ায় কামাররা ব্যবসায় উন্নতি করতে পারছে না বলে তারা জানান। এই শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তারা।