সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিক ও ছাত্রসহ ৮ জনের মৃত্যু

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাদাই গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের একটি ছেড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কাদাই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আবদুল মোমিন (৩০), হাবিবুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২), আবদুল হামিদের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (৩০), আবদুল আলীমের ছেলে সজীব (১৪), আবু তাহেরের ছেলে আবদুল্লাহ (১৬), আমিনুল ইসলামের ছেলে রাজু আহমেদ (১৬), আবু হানিফের ছেলে ছানু (১৮) এবং মেগা সেখের ছেলে আবদুস ছাত্তার (৪২)। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছাত্র, চারজন তাঁত শ্রমিক ও একজন ব্যবসায়ী। ঘটনা শোনার সাথে সাথে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ, সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কাদাই গ্রামে অবস্থিত যমুনা সেতু দাখিল মাদরাসাসংলগ্ন একটি মনোহরী টুঙ্গি দোকানঘর কয়েকদিন আগে কেনাবেচা হয়েছে। কাদাই গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের টুঙ্গি দোকান ঘরটি কিনে নেয় একই গ্রামের আবদুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ক্রেতা-বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে এলাকার তরুণদের সাথে নিয়ে দোকানটি স্থানান্তর করা হচ্ছিল। টিনের দোকান ঘরটি যেখানে ছিল সেখানে বৃষ্টির পানি জমেছিল। উপরন্তু দোকান স্থানান্তরকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। দোকান ঘর সরানোর সময়পথে বিদ্যুতের তার ছিড়ে ঝুলে পড়েছিল। স্থানান্তরকালে অসাবধানতাবশত ছেড়া তারের সাথে দোকান ঘরের টিনের চালার সাথে স্পর্শ লেগে বিদ্যুতায়িত হয়ে সবাই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে লোকজন এসে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠায়। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসা ছয়জনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে ক্লিনিকে নেয়ার পথে মারা যায় আরো দুইজন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবীদুল ইসলাম আটজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এদিকে হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। নিহতদের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। এদিকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা।