অভিনব রাজনীতির বিস্ময়কর সমঝোতা! গোলাম মাওলা রনি

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে যা ঘটে গেল, ঠিক তেমনটি যদি বাংলাদেশে ঘটে, তবে এ দেশের মতো মানুষ যে বিস্ময়ে বিমূর্ত হয়ে সংজ্ঞা হারাবেন তা আমার জানা নেই। ঘটনার আকস্মিকতায় এ দেশের দলকানা বুদ্ধিজীবী, সুবিধাবাদী খয়ের খাঁ এবং রাজনীতির আবর্জনা বলে স্বীকৃত দলীয় পাণ্ডা, গুণ্ডা, বদমাশ ও টাউট-বাটপাড়ের অবস্থা যে কী হবে, তা কল্পনা করার মতো উর্বর মস্তিষ্ক এ দেশে খুবই কম আছে। ধরুন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় অবসরে গেলেন ঠিক যেন মাহাথির মোহাম্মদের মতো করে। তারপর নাজিব রাজাকের মতো নতুন কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এলেন, যিনি বেগম জিয়া এবং বিএনপির প্রতি তেমন আচরণ করলেন, যেমনটি নাজিব করেছেন আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি। আওয়ামী লীগের সেই কল্পিত প্রধানমন্ত্রী এক দিকে বিএনপির জীবন হারাম করে দিলেন। অন্য দিকে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে প্রায় ১৫টি বছর ধরে সবাইকে অতিষ্ঠ করতে করতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত বাধ্য করলেন জনগণের পক্ষে পুনরায় রাস্তায় নামার জন্য।

আমাদের উপরিউল্লিখিত কল্পিত কাহিনী, যা ২০১৮ সালে হুবহু ঘটেছে মালয়েশিয়াতে, তা যদি ১৫ বছর পর বাংলাদেশে ঘটে, তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বয়স হবে ৮৬ বছর। ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি নতুন রাজনৈতিক দল করলেন এবং বেগম জিয়ার উত্তরসূরি তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী জোবায়দা বা তার কন্যা জাইমার সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুললেন। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্বাচনে ৮৬ বছর বয়সে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলেন এবং বেগম জিয়াকে জেলখানা থেকে বের করলেন। বিএনপির প্রতিনিধি নতুন সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রীসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে যে দিন শপথ নিলেন সে দিন সাংবাদিকেরা বেগম জিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন। ২০৩৩ সালের সেই কল্পিত বাংলাদেশে বেগম জিয়ার বয়স বেড়ে দাঁড়াবে ৮৮ বছরে। সে দিন তিনি বয়সের ভারে একটুও ন্যুব্জ হবেন না- বরং নতুন এক তারুণ্যে উজ্জীবিত হয়ে মুচকি হেসে বলবেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তিনি যাতে সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য আমার পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা থাকবে!
উল্লিখিত গল্পকাব্য শোনার পর আপনি হয়তো বলতে পারেন, মালয়েশিয়াতে যা সম্ভব, তা কোনো দিন বাংলাদেশে ঘটবে না। কারণ বহু জাতি, গোষ্ঠী ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত মালয়েশিয়ার লোকজনের মন-মানসিকতা, খাদ্যাভ্যাস, রুচি, ধর্মবোধ ও রাজনৈতিক ধ্যানধারণার সাথে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি বদ্বীপে বসবাসরত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ হোমোজেনিয়াস জাতিটিরও রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বাঙালি স্বভাবত কলহপ্রিয় এবং শক্তের ভক্ত নরমের যম প্রকৃতির। তারা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায়।

ঘুমের আগে চরমভাবে বাহারি খাদ্যে উদর পূর্তি করে এবং নিজগৃহ অরক্ষিত রেখে শত্রুর গৃহের নিরাপত্তার জন্য রাতদিন গবেষণা করে। তারা কৃমিনাশের জন্য যে ভাতের মধ্যে বিচিকলা মেশায়, সেই ভাতের সঙ্গে ঝোলাগুড় গুলিয়ে কৃমি উৎপাদন প্রকল্প চালু করে। তারা দলবদ্ধ হয়ে সুর করে কাঁদতে যেমন পছন্দ করে তেমনি হৈ-হল্লা, রঙ্গ-তামাশা, অত্যাচার-নিপীড়ন-জুলুম ইত্যাদিও দলবদ্ধ হয়ে করতে ভালোবাসে। ফলে তাদের পক্ষে মালয়েশিয়ার নেতাদের মতো রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়। আপনারা যারা বাঙালির রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে উচ্চাশা পোষণ করেন না, তারা কষ্ট করে নিম্নের ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বর্তমানের গুমোট বাঁধা রাজনীতির ব্যাপারে একটি ইতিবাচক স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল অবিভক্ত বাংলার ব্রিটিশ জামানার শেষ দিকে। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক তখন উভয় বাংলার অবিসংবাদিত নেতা। কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তিনি সর্বভারতীয় অর্থাৎ নিখিল ভারত মুসলিম লীগে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই মুসলিম লীগের সঙ্গে তার অহি-নকুল ও দা-কুমড়া সম্পর্ক স্থাপিত হলে তিনি কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টি তৈরি করেন। এরই মধ্যে বিলাতের পার্লামেন্টে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন পাস হয় এবং সেই আইনের অধীন অবিভক্ত বাংলায় সর্বপ্রথম ১৯৩৭ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেস সেই নির্বাচন বর্জন করে। বাংলায় তখন ফজলুল হকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক গুরু এবং আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন হিন্দু মহাসভা। একটি তুমুল প্রযোগিতামূলক নির্বাচনে ফজলুল হককে যুগপৎভাবে মুসলিম লীগ এবং হিন্দু মহাসভার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। নির্বাচনের পর দেখা গেল কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টির একার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয়। তাকে হয় মুসলিম লীগ নতুবা হিন্দু মহাসভার সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

আজকের বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করেন, তাদের অনেকেই হয়তো ১৯০০ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের গুরুত্ব, প্রভাব, মর্যাদা ও ক্ষমতা কল্পনাও করতে পারবেন না। আজকের বাংলাদেশের প্রধান দুই নেত্রী সর্বভারতীয় রাজনীতিতে যদি মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত নেহরু ও মাওলানা আবুল কালাম আজাদের নেতা হওয়ার পর্যায়ে থাকতেন; তবেই কেবল তাদের কট্টর অনুসারীরা শেরেবাংলার তৎকালীন অবস্থান অনুমান করতে পারতেন। তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯১৫-১৮ মেয়াদে। আবার প্রায় একই সময়ে, অর্থাৎ ১৯১৬-২১ মেয়াদে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি যখন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক, তখন ইন্দিরা গান্ধীর দাদা এবং জওয়াহেরলাল নেহরুর বাবা পণ্ডিত মতিলাল নেহরু তার ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কাজেই তার পক্ষে কংগ্রেস ত্যাগ এবং মুসলিম লীগ ত্যাগ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আওয়ামী লীগ ত্যাগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি ত্যাগের চেয়ে ছোট ঘটনা নাকি বড় তা আপনারাই বিবেচনা করুন।

১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার (আমার নির্বাচনী এলাকা যার অন্তর্ভুক্ত) যে আসনটি থেকে ফজলুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ঢাকার নবাব এবং মুসলিম লীগ নেতা খাজা নাজিম উদ্দিন। নির্বাচনের পর তিনি যখন সরকার গঠনের জন্য মুসলিম লীগের সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য হন, তখন তার মন্ত্রিসভায় খাজা নাজিম উদ্দিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৯৪১ সালে মুসলিম লীগ ফজলুল হক সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে তার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ ঘটনার ১০ দিন পর তিনি হিন্দু মহাসভার সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন এবং শ্যামা প্রসাদ মুখার্জিকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করে নেন।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর নব্য মুসলিম লীগারদের দাপটে বয়োবৃদ্ধ ফজলুল হক রাজনীতির অন্তরালে চলে যান অনেকটা ডা: মাহাথির মোহাম্মদের মতো। কিন্তু ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি মুসলিম লীগের দুর্নীতি, লুটপাট, জুলুম-অত্যাচার সাম্প্রতিক কালের মালয়েশিয়ার নাজিব রাজাকের জামানার মতো হয়ে ওঠে। সেখানকার নেতৃবৃন্দ যেভাবে ৯২ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদকে সামনে রেখে নাজিব রাজাককে উৎখাত করেছেন, ঠিক একইভাবে ১৯৫৪ সালে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ৮১ বছর বয়সী শেরেবাংলা ফজলুল হককে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট নামের রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলে সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভূমিধস পরাজয় নিশ্চিত করেছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকার এবং তৎপরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনা আমরা কমবেশি জানি। কাজেই আজকের আলোচনায় ওই দিকে না গিয়ে আমরা বরং সেখান থেকে শুরু করি, যেখান থেকে ফজলুল হক ও মাহাথির মোহাম্মদের প্রসঙ্গ টানতে আরম্ভ করেছিলাম।

আলোচনার প্রারম্ভে আমাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল- যদি মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক কালের বিস্ময়কর রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, তবে বাংলাদেশে কেন সেটা হবে না। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে যারা ঐতিহাসিক নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, তাদেরকে বুঝানোর জন্য আমি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের তিনটি খণ্ডিত ঘটনা উল্লেখ করে এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রায় ৮১ বছর আগে আমরা তাদের চেয়েও কঠিনতর সময় পার করেছিলাম এবং অধিকতর চমকপ্রদ রাজনৈতিক সমঝোতার ইতিহাস জন্ম দিয়েছিলাম। কাজেই আমরা যদি ১৯৩৭, ১৯৪১ ও ১৯৫৪ সালে অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিপক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা গড়ে তুলতে পারি, তবে কেন ২০১৮ সালে পারব না! এ ব্যাপারে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সমঝোতা নিয়ে সংক্ষেপে কিছু আলোচনা করা উচিত।

রাজনীতিতে সমঝোতা সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত জটিল ও দুরূহ একটি বিষয়। প্রথমত, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে যদি মহামানবের গুণাবলি না থাকে, তবে সমঝোতা অসম্ভব একটি বিষয়। কারণ, মানুষের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হলো তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা এককভাবে ভোগ করতে চায়। তারা রাজনীতির ময়দানে হইচই, কলহ-বিবাদ, ঝগড়াঝাঁটি ইত্যাদি করে এক যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব এনে চূড়ান্তভাবে তার প্রতিপক্ষকে পরাজিত ও অপমানিত করতে চায়। বিজয়ী পক্ষ প্রায় সব ক্ষেত্রে পরাজিত পক্ষের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ এবং তাদের মালিকানাধীন ধনসম্পত্তি, মালসামানা ইত্যাদি দখল করে মনের ঝাল মেটাতে চায়। বিজয়ী পক্ষ সব সময়ই ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী মনে করে এবং নিজেদের পরাজিত পক্ষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, উন্নততর, শক্তিশালী এবং অপরিহার্য বলে মনে করে। কেবল মহামানবের মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন এবং উত্তম চরিত্রের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দই দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত এড়িয়ে সমঝোতার পথে চলার সামর্থ্য রাখেন। কাজেই কোনো যুগে যদি এ ধরনের যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃবৃন্দ থাকেন, তবে রাজনীতির ময়দানে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে মহামানবের গুণাবলি না থাকলেও পরিস্থিতির চাপে অনেক সময় রাজনৈতিক সমঝোতা হয়ে যায়। যখন রাজনৈতিক পক্ষ এবং প্রতিপক্ষরা বুঝতে পারেন, সঙ্ঘাত-সংঘর্ষে তাদের উভয়ের জন্য ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসবে, তখন তারা বিভেদ ভুলে সমঝোতা করেন। নিজেদের জীবন, পদ-পদবি ও অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলে মানুষ সমঝোতার রাস্তা খোঁজে। আর তখন যদি তার প্রতিপক্ষ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকেন, তবে সাধারণত সমঝোতা হয় না। যখন উভয়পক্ষ সমক্ষতির আশঙ্কায় থাকে, ঠিক তখনই সমঝোতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের সমঝোতাকে সাধারণত অস্থায়ী বলে বিবেচনা করা হয়। কারণ, পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে পক্ষগুলো পুরনো দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতে পুনরায় জড়িয়ে পড়ে।

তৃতীয় পক্ষের মদদ বা চাপেও অনেক সময় সমঝোতা হয় বটে, তবে তা-ও উল্লিখিত সমঝোতার মতো খুবই ক্ষণস্থায়ী এবং ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়ে থাকে। রাজনীতির মাঠে একে অপরের প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ সমঝোতা করে- সমঝোতার মাধ্যমে মিত্র সৃষ্টি করে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। সমঝোতার ক্ষেত্রে পক্ষগুলোর মন-মানসিকতা, রুচি, স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ইত্যাদি যেমন নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, তেমনি পরিবেশ পরিস্থিতি, দৈবাৎ ঘটনা-দুর্ঘটনা এবং বিবর্তনের কারণেও সমঝোতা হতে পারে। কাজেই সব দিক বিবেচনা করলে আমাদের দেশে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে অভিনব কোনো সমঝোতার পরিবেশ সৃষ্টি হবে না- এ কথা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।