ঐতিহাসিক পলাশী দিবস আজ

আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী ট্রাজেডি দিবস। দু’শো ৬১ বছর আগে এ দিনে পলাশীর আম বাগানে ইংরেজদের সাথে এক যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে অস্তমিত হয় বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্য। পরাজয়ের পর নবাবের বেদনাদায়ক মৃত্যু হলেও উপমহাদেশের মানুষ নবাবকে আজও শ্রদ্ধা জানায়। তার সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।

ইতিহাসবিদ নিখিল নাথ রায়ের লেখা ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’ থেকে জানা যায়, নবাবের সেনা বাহিনীর তুলনায় ইংরেজদের সেনা সংখ্যা ছিল অনেক কম। সেখানে বিশ্বাসঘাতকতা না হলে নবাবের বিজয় ছিল সুনিশ্চিত। আরেক ইতিহাসবিদ ড. রমেশ চন্দ্র বলেন, নবাব ষড়যন্ত্রকারীদের গোপন ষড়যন্ত্রের কথা জানার পর যদি মীর জাফরকে বন্দী করতেন, তবে অন্যান্য ষড়যন্ত্রকারী ভয় পেয়ে যেতো এবং ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হলে পলাশীর যুদ্ধ হতো না। ইতিহাসবিদ মোবাশ্বের আলী তার ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে লিখেছেন, নবাব সিরাজউদ্দৌলা

প্রায় লাখ সেনা নিয়ে ক্লাইভের স্বল্পসংখ্যক সেনার কাছে পরাজিত হন মীর জাফরের মোনাফেকীতে। অতি ঘৃণ্য মীর জাফরের কুষ্ঠরোগে মৃত্যু হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের ট্র্যাজেডি এই যে, মীর জাফররা বার বার গোর থেকে উঠে আসে। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁ মৃত্যুর আগে দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলাকে নবাবের সিংহাসনের উত্তরাধিকারি করে যান। নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ সালের এপ্রিল মাসে সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসেন। নবাবের খালা ঘোষেটি বেগম ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। সেনাপতি মীর জাফর আলি খান, ধনকুবের জগত্ শেঠ, রাজা রায় দুর্লভ, উমিচাঁদ, ইয়ার লতিফ প্রমুখ ইংরেজদের সাথে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। ধূর্ত ইংরেজরা সন্ধির চুক্তি ভঙ্গ করে চন্দন নগরের ফরাসীদের দুর্গ দখল করে নেয়।

এরপর ১৭৫৭ সালের ১৭ জুন ক্লাইভ কাটোয়ায় অবস্থান নেয়। নবাব ২২ জুন ইংরেজদের আগেই পলাশী পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন। ২৩ জুন সকাল ৮টায় যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে। এবারও এমন এক সময়ে পলাশী ট্রাজেডি দিবস পালন হচ্ছে যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দিয়ে হলেও রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টা চলছে। বহু আন্দোলন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রও আজ বিপন্ন। শান্তিপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের ওপর চেপে বসে আছে দুঃসহ স্বৈরশাসক।

জাতীয়তাবাদী, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের ওপর সরকারের উন্মুক্ত খড়গ উদ্ধত। এই কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই আজ সবাই মহান প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে। পলাশী দিবস উদযাপনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন কর্মসূচি নিয়েছে