বিক্রি ‘শুরুর’ আগেই টিকিট শেষ!

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ জুন থেকে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা।

কিন্তু মালিক সমিতির সভা অনুষ্ঠানের আগেই ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ও নিয়মিত সার্ভিসের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। যেসব লঞ্চে পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার ঢাকা থেকে বরিশালে ফেরার নয়, সেগুলো বরিশাল থেকে ঢাকার ফিরতি টিকিট।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকা সত্বেও বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তা না মানায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তারা লঞ্চের টিকিট নিতে এসে হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চগুলো চাপ সামলাতে আগেই ঘোষণা দিয়ে স্লিপ বা আগে আসলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে টিকিট বিক্রি শুরু করে। আর এ কারণে সবাই টিকিট পেয়েছে, বঞ্চিত হয়নি কেউই।

আর যাত্রীদের অভিযোগ ‘সোনার হরিণ’ টিকিট কাউন্টারে না পাওয়া গেলেও স্পেশাল সার্ভিসের আগ মুহূর্তে কালোবাজারিদের হাতে ঠিকই পাওয়া যায়। আর তখন বাধ্য হয়ে চড়া দামে তা কিনতে হয়।

প্রশাসন বলছে, কালোবাজারি রোধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব দালালরা যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি দামে টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ রমজান থেকে ১৫ রমজান পর্যন্ত কেবিনের টিকিট প্রাপ্তির আবেদন জমা দেওয়ার নোটিশ দিয়েছিলো বেসরকারি লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার ১০ রমজান থেকে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সরাসরি টিকিটও বিক্রি করেছেন। এতে করে কীর্তনখোলা, পারাবত, এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের টিকিট শেষ হয়েছে বহু আগেই। আর এখন যারা টিকিটি নিচ্ছেন তারা আগে আবেদন দিয়ে রেখেছিলেন। এখন শুধু টাকা দিয়ে নিশ্চিত করছেন আসন। যার কারণে সুরভী- সুন্দরবন কোম্পানির লঞ্চে নতুন করে কেউ টিকিট পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের (৭ জুন)  মধ্যে ঈদের আগে ১২ জুন থেকে ঈদের পর ২২ জুন পর্যন্ত লঞ্চের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

বরিশাল নগরের ফজলুল হক এ্যাভিনিউ’র সুন্দরবন লঞ্চ কাউন্টারে টিকিট নিতে আসা সাইদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে মেয়ে, মেয়ে জামাই, নাতি বরিশালে ঈদ করতে আসতে চাচ্ছে। গত দুইদিন ও আজ মিলে বরিশালের প্রায় প্রতিটি লঞ্চের কাউন্টার ঘুরে এসেছি। ১৪ জুনের একটি ডাবল কেবিনের টিকিট কোথাও পাইনি। সবই নাকি শেষ হয়ে গেছে। তারপরও নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি, যদি কেউ ফেরত দেয় এই আশায়।

রফিকুল ইসলাম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বাবা জানান, পত্রিকায় দেখলাম স্পেশাল সার্ভিসের লঞ্চের টিকিট বিক্রি ৮ জুন থেকে শুরু হবে। তাই সকাল সকাল টিকিটের জন্য কাউন্টারে এসেছি। কিন্তু কোনো টিকিটই নেই।

কলেজ ছাত্রী সিনথিয়া বলেন, শুনেছি ঢাকা থেকে বরিশালে আসার কোনো টিকিট নেই। এখন দেখছি বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ারও কোনো টিকিট নেই। আমি ঈদের পর ২০ জুন বরিশাল থেকে ঢাকার টিকিট নিতে এসেছি কিন্তু কোনো টিকিটই পেলাম না।

সাদিকুর রহমান নামে এক যুবক জানান, ঈদের ছুটিতে আগমী ১৪ জুন ঢাকা থেকে ভাই-ভাবী আসার কথা। সেজন্য গত ২৬ মে সুরভী কাউন্টারে আবেদন (স্লিপ) জমা দিলেও সেখান থেকে কোনো কেবিন পাইনি। আর এখন ১৪ জুনের টিকিট তো পাইনি বরং বরিশাল থেকে ফিরতি টিকিট পাবো কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

সুরভী লঞ্চের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা অভি জানান, ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত ও বিশেষ সার্ভিসের লঞ্চের কেবিনের টিকিট দিয়েছেন মালিক পক্ষ। তারা যাচাই-বাছাই করে যাদের টিকিট নিশ্চিত করেছেন তাদেরই টিকিট আমরা শুধু মাত্র কাউন্টার থেকে দিচ্ছি।

সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতার হোসেন আকেজ জানান, এবারের ঈদে সর্ববৃহৎ, বিলাসবহুল ও আধুনিক লঞ্চগুলো থাকবে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে। যাত্রী পরিবহনে সরাসরি ২০/২২টি লঞ্চ চলাচল করবে। আমারা যারা আগে স্লিপ জমা দিয়েছে তাদের সিরিয়াল অনুযায়ী আশানুরূপ টিকিট দিয়েছি। এখন যারা টিকিট নিচ্ছেন তারাও স্লিপ অনুযায়ী নিচ্ছেন। নতুন করে কাউকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ), বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, টিকিট ব্লাকারদের ধরতে মাঠে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।