রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমঝোতা স্মারক সই

বাংলাদেশে অশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

আজ (বুধবার) স্বাক্ষরিত এ সমঝোতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদা এবং টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে অনেক এগিয়ে নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর নিপীড়নের মুখে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে।

দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন এবং তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এ আচরণকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য গত নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সম্মত হয়। কিন্তু রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন আন্তর্জাতিক তদারকি ছাড়া তাদের জীবন আবারও আরও সংকটাপন্ন হতে পারে।

নাগরিকত্বের মর্যাদাসহ নিজ দেশে ফিরতে চায় রোহিঙ্গারা

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের লেদা রোহিঙ্গা আনরেজিস্টার ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব রেডিও তেহরানকে বলেন, তারা তাদের নাগরিকত্বের মর্যাদাসহ নিজ দেশে ফেরত যেতে চায়। জাতিসংঘের মাধ্যমে তাদের নতুন এবং পুরাতন সকলের প্রত্যাবসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে ডেভিড মিলিব্যান্ডের সাক্ষাৎ

‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখুন’

এর আগে গতকালও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন

মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভিড মিলিব্যান্ড জাতীয় সংসদ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন,  বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে এবং এতে পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নিরাপদ স্থানে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের স্থানান্তরের লক্ষ্যে ভাষাণচর নামের একটি দ্বীপের উন্নয়নকাজ চলছে।

সরজেমিন রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে আইআরসি প্রেসিডেন্ট মিলিব্যান্ড একটি প্রিতনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। বর্তমান বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে আইআরসির একটি টিম কাজ করছে। #