খুলনা সিটি নির্বাচন: ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ আ. লীগ-বিএনপি প্রার্থীর

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একদিন আগে বাংলাদেশ হাইকোর্ট আজ (সোমবার) সকালে নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করার জন্য পুলিশের আইজি, খুলনা মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

এছাড়া ওই দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটপ্রার্থীদেরকে গণগ্রেফতার কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সে মর্মেও রুল জারি করেছে আদালত।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান-এর এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেয়।

এ রিটের পক্ষ শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নওশাদ জমির, কায়সার কামাল ও মীর হেলাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু

‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ বিএনপির প্রার্থীর

ওদিকে, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে সরকারি দল ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে ফলাফল নিজেদের অনুকূলে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

আজ সোমবার কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, একটি সুন্দর নির্বাচনের ফলাফলকে নিজেদের অনুকূলে নিতে মরিয়া হয়ে সরকারি দল নানা কৌশল নিচ্ছে। আগে থেকেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার পরিকল্পনা নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

সরকার ও পুলিশের ভূমিকাকে দানবীয় বলে মন্তব্য করে বিএনপির মেয়র প্রার্থীমঞ্জু  সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, গত ১৫ দিনে দলীয় কর্মীদের ওপর ‘সিডর, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেছে। তারপরও কর্মীরা মাঠ ছাড়েনি।

সংবাদ সম্মেলন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক

আওয়ামী লীগ ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ বিশ্বাসী নয়: খালেক

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেছেন, আওয়ামী লীগ ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে’ বিশ্বাসী নয়।

আজ (সোমবার) সকালে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আবদুল খালেক বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্বাসী হতাম তবে ২০১৩ সালে আমি পরাজিত হতাম না। যারা নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলে থাকেন তারাই আসলে ইঞ্জিনিয়ারিং করে থাকেন।’

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নিয়ে ভোটারদের আশঙ্কা

খুলনা নির্বাচনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় সাংবাদিক আবু তৈয়ব রেডিও তেহরানকে বলেন, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রগুলিতে ভোটের সরঞ্জামাদি পঠানো হয়েছে। মহানগরীতে বিজিবি মোতায়েন হয়েছে। প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী আবদুল খালেক ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ করেছে। আর ভোটারগণ আশঙ্কায় রয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পারবেন কি না।

রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের জন্য চলছে অঘোষিত কারফিউ: রিজভী

এদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় বিএনপি নেতা-কর্মী ও ভোটারদের জন্য চলছে অঘোষিত কারফিউ আর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জন্য ফাঁকা মাঠে উৎসব।

রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি না করে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় খুলনাকে এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন।

রিজভী বলেন, ‘খুলনায় যা হচ্ছে, তা হলো একনায়কতন্ত্রী শাসনব্যবস্থার উগ্র প্রতিফলন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো ভরসা নেই বলেই আমরা বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছিলাম, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে  নিশ্চুপ থেকেছে, যা দুরভিসন্ধিমূলক।’

এ সময় রুহুল কবির রিজভী বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীদের খুলনার ভয়ংকর পরিস্থিতির সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।