রাজনীতির পবিত্র হেফাজত নামা!

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন, যেটি ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের দাবি অনুযায়ি বাংলাদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। দলটি ২০১০ সাল পর্যন্ত কওমি মাদরাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও একটা সময় এসে সাধারণ মানুষের মনে কৌশলে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি, যা আবার একটা সময় এসে মুখ থুবড়ে পরে।  কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি ও ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন করাসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।  ২০১৩ সালের ৫ মে প্রথম সরকারবিরোধী দাবি-দাওয়া নিয়ে ঢাকায় দিনব্যাপী অবস্থান করেন হেফাজতে ইসলাম। সেদিন রাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদায় নেয় হেফাজতের কর্মীরা।  এরপর কয়েকদফা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সেই হেফাজতে ইসলাম। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি, পাঠ্যসূচিতে কী থাকবে বা থাকবে না সেই তালিকা দেওয়া থেকে শুরু করে সুপ্রিমকোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরানোর দাবি নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন ও সর্বশেষ গণভবনের অতিথির মর্যাদাও পেয়েছে দলটি। সেই হেফাজত  এই একই সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নিতে সক্ষম হচ্ছে।  ২০১০ সাল থেকে সংগঠনটি যখন শুরু হলো তখন থেকেই বিএনপি জামায়াত তাদের সাথে একপ্রকার লিয়াজু করেছে বলেও অভিযোগ ছিল। তখন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের কেউই তাদের মাথায় নেয়নি যার কারনে ২০১৩ সালে সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দারিয়েছিল এই হেফাজত। দুঃখ জনক হলেও এটাই সত্যি যে হেফাজতকে লাঠি হিসেবে ব্যবহার করে কয়েকটি মিডিয়া উপরে উঠার চেষ্টা করলেও তারা ছিটকে পরে কথিত কালো রাতে।  সেদিনের পর থেকে প্রকাশ্যে চার দেয়ালের বাহিরে কিংবা পুলিশি পাহারা ব্যতীত হেফাজত নিজেদের আর তেমন করে প্রকাশ করতে পারেনি। তবে সেই ৫ মের সমর্থন কে কাজে লাগিয়ে কাওমী মাওলানা এবং হেফাজত নেতা শাহ আহমদ শফী নিজেদের প্রকাশ করেছেন ভিন্ন রূপে। সেদিন রাতে তাদের দাবি অনুযায়ী ২ হাজারেরও অধিক সামর্থন নাকি নিহত হয়েছিল। এবং পরবর্তী সময়ে সেই ভুল মিথ্যা তথ্য এবং ৫ মের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা তার মুরীদ হয়েছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে তাদের সেবা করতে থাকেন। সেই রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যই ছিল আহমদ শফীর হাত যেন তাদের মাথায় রাখে যা প্রচার করে এই বাঙালী মুসলমানদরে মনে নিজেদের পবিত্র এবং খাটি মুসলমান হিসেবে প্রমান করবে।  আশির্বাদ নেয়া সকল নেতাদের উদ্দেশ্যই ছিল নিজেদের পবিত্র দাবি করে জনগনের মন জয় করা। এতদিন সাধারণ মানুষ যে ধারণা তাদের প্রতি রেখেছে তা যেন দ্রুত মুছে যায় তার জন্য একটা সাইন বোর্ড ব্যবহার করা।  সেটা কতটুকু সফল হয়েছে তা হয়ত নির্বাচন নিরপেক্ষ হলেই বুঝা যাবে। হেফাজত নামার কবলে পরে  বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবকে মন্ত্রী থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী. বিরোধী দলীয় নেতা এবং সর্বশেষ একজন সিটি কর্পোরেশনের মেয়রও তার আশির্বাদ নিতে ভুলেনি। হেফাজতকে নিজেদের কাছের করতে গিয়ে বর্তমান সরকার যে হেফাজতকে কান দরিয়ে মাঠ ছাড়া করিয়েছিল সেই সরকারই তাদের হাতে কওমি সনদ তুলে দিয়েছে। আবার সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ০২ ফেব্রুয়ারী  বিকাল ৪টার দিকে তার মাদ্রাসায় এসে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই একই দিনে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান দলের প্রভাবশালী নেতা খালেদা জিয়ার আস্তাবাজন মীর মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন। একজন বর্তমান মন্ত্রী ও অপরজন রাজ পথের বিরোধী দলের সাবেক মন্ত্রী। এই দুই মন্ত্রীর হেফাজত আমীরের সাথে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকারটি হাটহাজারীবাসী সহ ঘোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছিল ব্যাপক আলোচনা। তবে সবসময়ের মতই পল্টি মারতে ভুলেনি এরশাদ ২০১৪ সালের নির্বাচন কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে শফি হুজুরের দারস্ত হয়েছিলেন তিনি। সর্বশেষ সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেকে পবিত্র মানব হিসেবে তৈরি করতে হুজুরের দারস্ত হয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ১৪দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী  অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম।  এর আগে ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওই সময়ে বিএনপি দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজত কর্মীরা ওই সময় মেয়র মান্নানের পক্ষে প্রচারণা চালান ও ভোট চান। শেষ পর্যন্ত মেয়র প্রার্থী এম এ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। ওই চিন্তা মাথায় রেখে মনে করা হচ্ছে এবারও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অরাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করবে হেফাজতে ইসলাম। এ কারণে হেফাজতের আমীরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় জোট দুই পক্ষ থেকেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল গুলা যখন বিজয়ের লোভে হেফাজতের  দারস্ত হচ্ছে তেমনি করে প্রকাশ্যে ও অপকাশ্যে নিজেদের চাহিদা পুরন করে নিচ্ছে হেফাজত। যার পরবর্তী পরিনাম ভুগতে হবে এই রাজনৈতিক দলগুলাকেই। হেফাজত নামার পরশে এসে হয়ত কথিত পবিত্রতা অর্জন করা যাবে কিন্তু এর ফলাফল বুঝা যাবে ব্যালট বাক্সেই আসলে তারা কতটুকু পবিত্র হয়েছে। একটা সময় নর্বিাচন আসলে লক্ষ্য করা যেত রাজনৈতিক নেতারা ইসলামী পোষাক পরে বাড়ি বাড়ি নির্বাচনি দাওয়াত দিত যাদের অর্থ ছিলো তারা হজে যেত কিন্তু সেটাও এখোন পুলন হয়েছে মেনুষ হজের বিষয়টাকে সাধরণ ভাবে নিলেও রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন তাদের নিকট এখোন সবচেয়ে বড় হচ্ছে শফি হুজুর, তার দারস্ত হলেই হয়ত বিজয় নিশ্চত। তাইত হেফাজত নামা সকলের সাথে রাখতে চায় রাজনৈতিক নেতারা।

ইসরাফিল ফরাজী