পর্দার অন্তরালের নায়ক ইমরান

সাদ ধ্রুব,কক্সবাজার প্রতিনিধি,প্রেসটাইম২৪: কক্সবাজারের সেই ছোট্ট জাহিদের কথা সবার মনে আছে কি? যে কিনা ‘মধু হই হই বিষখাওয়াইলা গানটি গেয়ে সোশাল মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছিলো! যার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বের আনাচে কানাচে।

কিন্তু এই ছেলেটির আবির্ভাবের পিছনে যে মানুষটি আছেন তার নাম ইমরান হোসেন।যিনি কিনা পর্দার পেছনের নায়ক।মাটির গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়াই তো তার নেশা ! ১৯৯০ সালে নরসিংদী জেলায় তার জন্ম।ছেলেবেলার অল্প সময়ই কেটেছে নরসিংদীতে।

কিশোর বয়সে বেড়ে উঠেন ঢাকায়।ব্রাক্ষন্দি কে.কে.এম গভ: হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক, নর্দান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন।গানের প্রতি আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,”৪ বছর বয়স থেকেই আমি গান গাইতাম,গানের প্রতি ভালোবাসা মনে হয় ঈশ্বর প্রদত্ত।সর্বপ্রথম আমি নজরুল সঙ্গীত এর উপর তালিম নেই। কিন্তু ধীরে ধীরে ফোক গানের প্রতি আমার আকর্শন বাড়তে থাকে।আমি হাসন রাজা, বাউল শাহ আব্দুল করিম লালনদের মত বাউল সাধকদের পদ গুলুকে ভালবেসে গান গাওয়া শুরু করি।আমি অনুভব করতে থাকি তাদের গানের মধ্যে গভীর ভাব আছে।তাই আমার স্বপ্ন ছিলো তাদের গানগুলো তরুন প্রজন্মের কাছে পৌছে দেওয়া।সেই ভাবনা থেকেই আমি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ ‘ নামক একটা ইউটিউব চ্যানেল গঠন করি”।
স্বপ্নপূরনের পথে কেমন বাধা ছিলো তা জানতে চাইলে তিনি বলেন,” যে কোনো ভালো কাজ করতে অবশ্যই বাধা আসবে।পরিশ্রম ও সততার দ্বারা সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে”।তিনি শুধু নিজেই গান গাচ্ছেন তা কিন্তু না অন্যান্য মেধাবী শিশু কিশোরদের সহ সকল প্রতিভাবান মানুষদের গান গাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘ সঙ্গীত নিয়ে অনেক প্রতিভা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে,সোশাল মিডিয়ার বদৌলতে আমি তাদের খুজে বের করতে পারছি।মানুষের জন্য এটুকু করতে পেরেই আমি খুশি।”মানুষ পৃথিবীতে বারবার আসেনা তাই অন্যের জন্য,দেশের জন্য কিছু করাই তো মানুষের ধর্ম ”। ”সুতরাং” নামের শিরোনামে তার একটি ব্যান্ড দল আছে যারা ফোক ফিউশন সহ নিজেদের মৌলিক গান করে থাকেন । তিনি সবসময় একটি কথা বলেন ” আনন্দ ছড়িয়ে দিতে হয় , আনন্দ নিজের মধ্যে ধরে রাখলে কি হয় ? সৃষ্টিকর্তা যেনো তাকে মানুষের পাশে দাড়ানোর তৌফিক দেন সেটাই আমাদের কাম্য।আনন্দ আসবেই।