নির্বাচন কি কারো মেয়ের বিয়ে যে নিমন্ত্রণ করবেন: প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার ক্ষমতা দখলে রাখতে সবগুলো সরকারি সংস্থাকে ব্যবহার করছে। ইদানীং দুর্নীতি দমন কমিশনও বিভিন্নভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম’ আয়োজিত যুবসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, “পকেটমার যখন পকেট মারে, তখন আরও চার-পাঁচজন সঙ্গে থাকে। সঙ্গীরা নানা কায়দায় টার্গেটের ব্যক্তিকে ব্যস্ত রাখে। আর এই সুযোগে পকেটমার তার কাজ সেরে নেয়। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে একই কায়দায় বিএনপিকে ব্যস্ত রাখছে সরকার। এভাবে অন্যদিকে ব্যস্ত রেখে তারা পকেট মেরে দিচ্ছে।”

আমীর খসরু বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু সবই তো নীল নকশা। তারপরও নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই বিএনপি অংশ নিচ্ছে। যদিও নির্বাচন তো কিছু দেখা যাচ্ছে না।”

শেখ হাসিনা

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসার জন্য কাউকে ডাকা হবে না- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নির্বাচন কি কারো মেয়ের বিয়ে যে নিমন্ত্রণ করবেন? নির্বাচন ১৬ কোটি মানুষের অনুষ্ঠান। তারাই ঠিক করবে কে আসবে না আসবে। তাই দেশের নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করবেন না।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে আমীর খসরু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের যে আত্মসম্মানবোধ নেই, সিটি নির্বাচনের জন্য করা সমন্বয় কমিটি তারই প্রতিফলন। একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে ফরেন বডি থেকে লোকবল এনে নির্বাচন সমন্বয় কমিটি করতে পারে না ইসি। এই কমিটি সংবিধানবিরোধী।”

সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে হবে। কারণ ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশে আর ফিরে আসবে না। আর আগামী নির্বাচন খালেদা জিয়াকে ছাড়া হবে না, এটাই শেষ কথা। তাকে মুক্তি দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।