আসাদের গুহায় আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্সের হামলা, আহত ৩

সিরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স-ব্রিটেন-হামলা-rtvonline-syria-us-france-uk-attack

প্রেসটাইম২৪: সিরিয়ায় সন্দেহ ভাজন রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির কারখানায় বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। গেলো সপ্তাহে পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর ডৌমায় সন্দেহভাজন রাসায়নিক অস্ত্র হামলার জবাবে এমন পদক্ষেপ নিলো পশ্চিমা বিশ্ব।
এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, হোমস শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হামলায় কমপক্ষে তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তারা বলছে, বেশ কিছু মিসাইল ভূপাতিত ও গতিপথচ্যুত করার ঘটনায় ওই ব্যক্তিরা আহত হয়েছেন।
সিরিয়া সরকার বলছে, সামরিক ঘাঁটি থেকে সব সেনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন তারা ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করছে। তারা বলছে, দেশটিতে প্রায় ৩০টি মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মিসাইলকে ভূপাতিত করার দাবি করেছে আসাদ সরকার।

পেন্টাগন জানিয়েছে, রাজধানী দামেস্ক ও হোমস শহরের কাছে দুটি কারখানা গুড়িয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূত বলেছেন, মিত্রদের ওপর হামলার জন্য কঠোর ‘ফল ভোগ’ করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সম্মিলিতভাবে সিরিয়ায় হামলা চালিয়েছে।

ওই হামলার পর জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, আমি নিরাপত্তা পরিষদের তিন সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলার বিষয়টিতে নজর রাখছি। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের ‘জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন’ মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আর সিরিয়ায় বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিয়ার মানুষ ছয় বছর ধরে রাসায়নিক হামলাসহ ভয়াবহ হামলার মধ্য দিয়ে গেছে, যেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই যুদ্ধাপরাধের শামিল।

অন্যদিকে সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড ‘কূটনীতিক কৌশলের’ ওপর জোরারোপ করেছেন। তিনি বলেন, সামরিক অভিযান তখনই সফল হবে যখন এটিকে রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাবে।
নেটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলেনবার্গ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই হামলায় ‘সাধারণ মানুষদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র হামলার সক্ষমতা আরও কমবে আসাদ সরকারের’।

রাজধানী দামেস্কের একজন বাসিন্দা বলেছেন, আমাদের ওপর যেন নরক ভেঙে পড়ছিল। অধিকাংশ মিসাইলই ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি বলেছেন, তারা কমপক্ষে ২০টি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল ছুঁড়তে দেখেছেন।