বার্সার সর্বনাশ কারও পৌষ মাস

প্রেসটাইম২৪: চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল ফিরতি লেগে বার্সেলোনার বদলে ভুল করে এএস রোমার পক্ষে বাজি ধরেছিলেন এক লোক। জ্যামাইকার বেটিং প্রতিষ্ঠান ‘জাস্ট বেট’ জানিয়েছে, অনেক চেষ্টা করেও তিনি বাজিটা পাল্টাতে পারেননি। বাজির লগ্নি হারানোর দুশ্চিন্তা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। কিন্তু এস্তাদিও অলিম্পিকোতে শেষ বাঁশি বাজার পর সেই লোকের ১ হাজার ডলার লগ্নিই হয়ে গেল ৫২ হাজার ৬২৪ ডলার! এ কি ভানুমতির খেল!

তা সে ভানুমতি কিংবা কেরামতি—যে মতির খেলই বলুন না কেন, খেলটা তো আসলে দেখিয়েছে এএস রোমা। একটা দল লা লিগা টেবিলের শীর্ষে। আরেকটি দল আছে লা লিগার চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল লিগ সিরি ‘আ’র পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে। এমন দুটি অসম শক্তির দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হলে কী ফল হতে পারে, সেটা তো সহজেই অনুমেয়!
সবার ধারণাকে সত্য প্রমাণ করেই ন্যু ক্যাম্পে প্রথম লেগ ৪-১ গোলে জিতেছিল বার্সা। ফিরতি লেগে তাই রোমার পক্ষে পাগল ছাড়া কারও বাজি ধরার কথা নয়। কিন্তু সেই লোকটি তো পাগল নন। তাই ভুল শোধরাতে বাজির দল পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রোমা সবাইকে ভুল প্রমাণ করে ফিরতি লেগ জিতেছে ৩-০ গোলে!

দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ৪-৪ হলেও ‘অ্যাওয়ে গোল’ সুবিধা নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠল রোমা। তবে ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ হিসেবে নিলে ১৯৮৪ সালের পর এ টুর্নামেন্টে এটাই রোমার প্রথম সেমিফাইনাল। এস্তাদিও অলিম্পিকোতে রোমা–সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসটা তাই মোটেও অযৌক্তিক কিছু নয়। তবে এই উচ্ছ্বাসের অপর প্রান্তেই লুকিয়ে হতাশার মেঘ, যা ছেয়ে গেছে স্পেনের কাতালুনিয়ার আকাশজুড়ে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে টানা তৃতীয় মৌসুম কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ল বার্সা। তবে এবারের বিদায়টা কারও কল্পনাতেও ছিল না। প্রথম লেগে তিন গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও হার—এ যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র কাছে তাই বার্সার এই হার ‘ঐতিহাসিক পতন’। ‘মার্কা’র ঘোষণা ‘বার্সা সাম্রাজ্যের পতন’।
অথচ কাল রাতের ম্যাচের আগে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্ত’-এর শিরোনাম ছিল ‘মিশন ইমপসিবল’। রোমা তা ‘পসিবল’ করায় লিওনেল মেসি-আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের নিশ্চয়ই হৃদয় ভেঙেছে? বার্সায় ১৩ বছর ধরে খেলা সার্জিও বুসকেটস যেমন বলেই দিয়েছেন, ‘যেভাবে সবকিছু ঘটছে, তা আমার বার্সা ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।

’ধাক্কা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার জন্যও। বার্সার ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা মিডফিল্ডার জানিয়ে দেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগে এটাই আমার শেষ ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সে জন্য আরও বেশি খারাপ লাগছে। এটা খুব কষ্টের বিদায়, কারণ এগিয়ে থাকায় কেউ তা আশা করেনি।’ মেসির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমন হারের পর আর কীই–বা বলা যায়! কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগ মিলিয়ে যে তাঁর পায়ে গোল নেই।