দূর্দান্ত ম্যাচ খেললো স্পেন–জার্মানি

স্পেন-জার্মানি—বিশ্বকাপের দুই ফেবারিট। একদল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন, আরেক দল ২০১৪ সালের। আগামী জুনে রাশিয়া বিশ্বকাপে আগের দুই বিশ্বকাপের দুই চ্যাম্পিয়ন যে দর্শকদের মাতিয়ে তুলবে, সেটার একটা ঝলক দেখা গেল গত রাতে। ডুসেলডর্ফে স্পেন ও জার্মানির প্রীতি ম্যাচে দর্শকেরা উপভোগ করল আকর্ষণীয় ফুটবল আর সেরা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফুটবল-শৈলী। ১-১ স্কোরলাইন বুঝিয়ে দিচ্ছে, দারুণ এই ম্যাচে হার প্রাপ্য ছিল না কারোরই।

ভ্যালেন্সিয়া ফরোয়ার্ড রদ্রিগো মরেনোর গোলে স্পেন এগিয়ে গিয়েছিল। গোলের উৎসে ছিলেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। কিন্তু টমাস মুলার উদ্‌যাপনটা ১০ মিনিটের বেশি করতে দেননি স্পেনকে। বিরতির ঠিক আগে দিয়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান তিনি।
এই ম্যাচ সমতায় শেষ হওয়ায় জার্মানি অপরাজিত থাকছে টানা ২২ ম্যাচ। স্পেনও কম যায় না। এ নিয়ে টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত আছে তারা।
ম্যাচের স্কোরলাইনটা মনে ধরেছে মুলারের। তাঁর মতে, ড্র হয়েই এটি ম্যাচটি সম্পর্ক সঠিক বার্তা দিচ্ছে, ‘এই ম্যাচটি ২-২ কিংবা ৩-৩ গোলে ড্র হতে পারত। সবাই দেখেছে স্পেন ও জার্মানি কতটা উঁচুমানের ফুটবল খেলতে পারে। দারুণ একটা পরীক্ষা হলো আমাদের। তবে এটা বোঝা গেছে আমাদের উন্নতির যথেষ্ট জায়গা আছে।’

স্প্যানিশ কোচ হুলেন লোপেতেগুই কাল ডিয়েগো কস্তার জায়গায় মরেনোকে নামিয়ে সবাইকে অবাকই করেছিলেন। কিন্তু মরেনোকে নামানোর পেছনে যুক্তিও ছিল। লা লিগায় মরেনোর নামের পাশে আছে ১৩ গোল। সর্বশেষ ৩ ম্যাচেই তিনি গোল করেছেন ৪টি। এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পর তাঁকে না নামিয়ে পারেননি কোচ লোপেতেগুই। কোচের আস্থার প্রতিদান দারুণভাবেই দিয়েছেন মরেনো। ম্যাচে ষষ্ঠ মিনিটেই ইনিয়েস্তার দুর্দান্ত পাস থেকে গোল করেন মরেনো।

মুলারের গোলটি যে দুর্দান্ত ছিল, সেটি আগেই বলা হয়েছে। বক্সের বাইরে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন তিনি। এরপর মুলারের পাস থেকেই জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ রক্ষণভাগে অতন্দ্র প্রহরীর মতোই ছিলেন সার্জিও রামোস। কাল স্পেনর জার্সিতে নিজের ১৫০তম ম্যাচটি খেলতে নেমেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

ড্র্যাক্সলারের আরও একটি সুযোগ নস্যাৎ করে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়া। এটি ছিল দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটের ঘটনা। এরপর গোলের একেবারে সামনে থেকে ইসকোর প্রচেষ্টা ঠেকান আন্দ্রে-টের-স্টেগেন। জার্মানির গুনদোগানও আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। টনি ক্রুসের একটি ফ্রি কিক থেকে ম্যাট হ্যামেলসের একটি শট তো ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।

ম্যাচ শেষ ক্রুসও সন্তুষ্ট ম্যাচের স্কোরলাইনে, ‘আমার মনে হয় স্কোরলাইনটা ঠিকই আছে। উন্মুক্ত একটা ম্যাচ খেললাম। পরীক্ষাটাও দিয়েছি ভালোই।’