শুধু কী সাকিব? মাঠ ছাড়েন গাভাস্কার-রানাতুঙ্গাও

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে কলম্বোর প্রেমাদাসা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। যার নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

ম্যাচ শেষে অবশ্য সাকিব নিজেই এই ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি শিকারও করে নিয়েছেন যা ঘটেছিল মাঠে সেটি করা উচিৎ হয়নি। মাথা ঠাণ্ডা রাখা দরকার ছিল।

মাঠের উত্তাপ মাঠেই নিভে যেতে পারতো। এটাইতো নিয়ম। ক্রিকেট নামটার সাথে যে বলা আছে ‘ক্রিকেট ভদ্র লোকের খেলা’। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের ওপেনার তামিম ইকবালও মনে করিয়ে দেন এটি। ফাইনাল ম্যাচে মাঠে আসার জন্যও শ্রীলঙ্কার দর্শকদের আমন্ত্রণ জানান তামিম।

গণ্ডগোলের সূত্র বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শেষ ওভারে। ইশুরু উদানার করা ওই ওভারটির প্রথম দুই বলই মুস্তাফিজুর রহমানের কাঁধের উপর দিয়ে যায়। আম্পায়ার অযৌক্তিক ভাবে ‘নো বল’ না দেয়াতেই ক্ষেপে যান সাকিব।

চতুর্থ আম্পায়ার বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে থামানোর চেষ্টা করলেও মাঠ থেকে সতীর্থদের উঠে আসার ইঙ্গিত দেন সাকিব। অধিনায়কের ডাকে সাড়া দিয়ে দুই ব্যাটসম্যান উঠে আসলে ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যেতে টাইগাররা। ফলে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষ হতো লঙ্কানরা। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের হস্তক্ষেপে ফের শুরু হয় খেলা। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের অসাধারণ পারমরম্যান্সে জয় পায় দল।

সাকিব যা করেছেন তা অবশ্যই দলের জন্যই করেছেন। যেহেতু তিনি দলপতি তাই এই প্রতিবাদটি করাই তার দায়িত্বে ছিল।
টাইগার অধিনায়কের এমন কাণ্ডে চটেছেন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের এই সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, আজ যেটা হয়েছে তা কোনভাবেই কাম্য নয়। সাকিব মাঠ আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করেছে। আমি মনে করি তাদের বোর্ড থেকে এসব বিষয়ে আরও সতর্ক করা। আইসিসিকে ও আরও কঠোর হতে হবে।

কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারের এমন মন্তব্যে সামাজিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে উঠে আসছে অতীতে কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছিল।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রেমীরা যাকে নিজেদের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক বলেন তার কথায় আসা যাক। সময় ১৯৯৯ সাল। এডিল্যাডে চলছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ। মুত্তিয়া মুরালিধরনের বলে ‘নো বল’ দেন সেই ম্যাচের আম্পায়ার রস এমারসন। আর তাতেই আম্পায়ারের উপর ক্ষিপ্ত হন অর্জুনা রানাতুঙ্গা। দল বল নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
এই রানাতুঙ্গাই বদলে দেন দ্বীপরাষ্ট্রটির ক্রিকেটের চেহারা। তার অধীনে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতে লঙ্কানরা। রানাতুঙ্গাকে নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে এখনো অটল তিনি।

সাল ২০০৬ এবার ইনজামাম উল হকের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার পালা। তার কাছে হারতে হয় অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার ড্যারেল হেয়ারকে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে পাকিস্তানকে ৫ রান জরিমানা করা হয়। ওভাল টেস্টে দলবল নিয়ে মাঠ ছাড়েন পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি। তাতে কি হয়েছে ইনজামামের? উল্টো ক্যারিয়ার শেষ হয় ড্যারেলের। যদিও ইনজামাম সেদিন পুরষ্কার বিতরণী মঞ্চে ভুল শিকার করে নেন।
ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবার নয়। বেশ দূরে দেখার প্রয়োজন নেই। সবশেষ বাংলাদেশের সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে মাহেন্দ্র সিং ধোনি যে মুস্তাফিজকে ইচ্ছা করেই ধাক্কা দিয়েছিল সেটিতো স্পষ্টই আদৌ সেটির ভুল শিকার করে নেয়নি ধোনি।

গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সাকিবের প্রতিবাদ খুব খারাপ লেগেছে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার গাভাস্কারের। সাকিব কেনো মাঠে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছাড়তে বলেছেন এটিই তার চোখে কাঁটার মতো বিঁধেছে। একটি টেলিভিশনের টক শোতে খুব চটেছিলেন তিনি।

তাহলে একটু পেছনে তাকাই। ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট চলাকালীন আম্পায়ারের দেয়া লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি এই গাভাস্কার। নিজেতো মাঠ ছেড়েছেন সঙ্গে সতীর্থকেও টেনে নিয়ে যান মাঠের বাইরে।

গতকালের অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেছেন সাকিব। টিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায় দুটি বলই পরপর কাঁধের উপর দিয়ে কিপারের হাতে যায়। এতেই ক্ষিপ্ত হন সাকিব। আর ওই আচরণে তার বিরুদ্ধে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। ম্যাচফি’র ২৫ শতাংশও কেটে রাখা হয়েছে।