জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র জোটের মিছিল-সমাবেশ

গতকাল ৩ মার্চ, শনিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসীচক্রের একজন ছুরিকাঘাত করে। অতর্কিত আক্রমণে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর ওপর এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে আজ ৪ মার্চ ২০১৮, রবিবার, প্রগতিশীল ছাত্র জোটের আয়োজনে বেলা সাড়ে ১২ টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলাভবনের সামনে সমাবেশ করে। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক সরকার আল ইমরান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা জয়দ্বীপ ভট্টাচার্যসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ পরিচালনা করেন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবার কবীর।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হামলাকারী ফয়জুলরা এই নিপীড়ক রাষ্ট্র ও ফ্যাসীবাদী শাসনব্যবস্থার টুলস হিসেবে কাজ করে। বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শিক্ষাব্যবস্থার ভিতরে যে সংকট তার ফলেই উগ্রবাদী , আক্রমণাত্মক সন্ত্রাসী তৈরি হচ্ছে। এই হামলার সাথে যারাই জড়িত হোক না কেন তাদের মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিগত সময়েও বহু বুদ্ধিজীবী, লেখক, চিন্তককে আক্রমণ করা হয়েছে, অনেকেই খুন হয়েছে। সেসব ঘটনার বিচার হয় নি। এই বিচারহীনতার অবসান করতে হবে। অবিলম্বে শিক্ষক জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসী ও হামলায় মদদদাতাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, সুপরিচিত একজন শিক্ষকের ওপর এ রকম বর্বরোচিত হামলার ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ। গণতন্ত্রকে জাদুঘরে রেখে, শিক্ষাব্যবস্থায় সীমাহীন বৈষম্য চালু রেখে নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, মানবিক পরিবেশ আশা করা যায় না। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা, ক্ষমতার কামড়াকামড়ি, ধর্ষণ-হত্যা ও সহিংসতায় মানুষ মরছে। দেশের মানুষ চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মতপ্রকাশ, চিন্তা করা, লেখালেখি করা, প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক কোনো পরিসর নেই। এই কোণঠাসা পরিস্থিতি চলতে পারে না। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। সবার জন্য নিরাপত্তা, মানবিক জীবন ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হবে। সেই লড়াইয়ে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত হবার আহ্বান জানাই।